মির্জাপুরে টিএসপি–ডিএপি সারের তীব্র সংকট, ব্যাহত সরিষা–আলু–ভুট্টা চাষ

লুৎফর অরেঞ্জ,স্টাফ রিপোর্টার মির্জাপুর,টাঙ্গাইল:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
মির্জাপুরে টিএসপি–ডিএপি সারের তীব্র সংকট, ব্যাহত সরিষা–আলু–ভুট্টা চাষ

াঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে উপজেলার সরিষা, আলু ও ভুট্টার চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের বিসিআইসি ও বিএডিসির সারের ডিলাররা সারের ঘাটতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক এখন কালোবাজার থেকে অতিরিক্ত মূল্যে সার কিনে জমিতে ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডিলার অভিযোগ করে বলেন, চাহিদা বেশি হওয়ার সুযোগে কিছু অসাধু ডিলার ও সাব-ডিলার গোপনে টিএসপি ও ডিএপি সার মজুত করে রেখেছেন। এখন তারা সুযোগ বুঝে এসব সার বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে বাজারে সারের সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন জানান, মির্জাপুরে টিএসপি সারের চাহিদা ১৩৭২ মেট্রিক টন হলেও বরাদ্দ এসেছে ১২২৭ মেট্রিক টন। অন্যদিকে ডিএপি সারের চাহিদা ১২৩৩৪ মেট্রিক টন থাকলেও বরাদ্দ মাত্র ৪২২৭ মেট্রিক টন।

তিনি আরও বলেন, সরিষা, আলু ও ভুট্টার পাশাপাশি বোরো চাষের মৌসুম হওয়ায় অনেক কৃষক আগাম বোরো চাষের জন্যও সার সংগ্রহ করেছেন। এ কারণে বাজারে সারের সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়াও বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কিছু কিছু এলাকায় নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারেননি। এখন একযোগে সারের প্রয়োজন হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই সংকট কেটে যাবে।

মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে ডিএপি সারের ঘাটতি থাকায় বিকল্প হিসেবে কৃষকদের এমওপি সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাজার স্বাভাবিক হলে পুনরায় ডিএপি ব্যবহার করা যাবে।

সারের এই অস্বাভাবিক সংকট দ্রুত সমাধান এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা।