সৈয়দপুরে নকল প্রসাধনীর  মোকাম গড়ে উঠেছে

জহুরুল ইসলাম খোকন সৈয়দপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে নকল প্রসাধনীর  মোকাম গড়ে উঠেছে

oplus_34

নামীদামি মোড়কে নিম্নমানের নকল প্রসাধনীর মোকাম গড়ে উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। আর এসব প্রসাধনী সৈয়দপুর থেকে পাইকারি ভাবে বিক্রি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা শহরে।
যুবক- যুবতীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মতে, নকল প্রসাধনী ব্যবহারে চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঝিমিয়ে পড়ায় শহরের নকল প্রসাধনী ব্যবসায়িরা এই কয় দিনেই আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন।
স্থানীয় ক’জন বৈধ প্রসাধনী ব্যবসায়িরা বলছেন, সৈয়দপুর শহরের কিছু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন
ধরে ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নকল প্রসাধনী সংগ্রহ করে সৈয়দপুরে নিয়ে আসছেন। যারা ওইসব প্রসাধনী আনছেন তাদের অধিকাংশই শহরের চুড়ি মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী।
ওইসব প্রসাধনী যেমন যাচ্ছে সৈয়দপুর সহ নীলফামারীর বাজারে, তেমনি যাচ্ছে দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ উত্তরের বিভিন্ন জনপদে। নকল ওইসব প্রসাধনীর প্যাকেটে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, অনুমোদন, বিএসটিআইয়ের লোগো, ব্যাচ নম্বর, এমআরপি, এমএফজি, মেয়াদের তারিখ সবকিছুই উল্লেখ থাকলে-ও। মোড়ক দেখে বোঝার উপায় নেই, কোনটা আসল আর কোনটা নকল প্রসাধনী।
শহরের অনেক বিউটিশিয়ান বলেন, ‘অনেকেই মুখে কালো দাগ, র‍্যাশ, গোটা, অ্যালার্জি সমস্যা নিয়ে আসেন পার্লারে। কিন্তু তাদের ত্বক দেখলেই বুঝা যায় নকল ক্রিম, লোশন ব্যবহারের ফলেই ত্বক নষ্ট হয়ে গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের চুড়িপট্টি এলাকায় সনু নামের এক ব্যবসায়ি সহ প্রায় ৮ থেকে ১০টি পাইকারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে নকল প্রসাধনী। ওই দোকানগুলোতে বহুজাতিক কোম্পানির হুবহু নকল প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে অবাধে। তাতে মেইড ইন জার্মানির জায়গায় মেড অ্যাজ জার্মানসহ বিভিন্ন দেশের স্টিকার ব্যবহার করা হচ্ছে।
আবার ইউনিলিভারের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির আদলে ফেজার অ্যান্ড লাভলি, ফুয়ার অ্যান্ড লাভলি ইত্যাদি নামে রং ফরসাকারী ক্রিম, শেভিং ফোম, ফেস ওয়াশ, আফটার সেভ লোশন, ন্যাচারাল ব্ল্যাক কালার, গার্নিয়ার, লরেল, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়া মেরিন লোশন, পেনটিন, নেভিয়া লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবানসহ বিভিন্ন প্রসাধনী অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।এ ছাড়া জনপ্রিয় সুগন্ধি ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে ফগ, হুগো, রজনীগন্ধা, ফেরারি, রয়েল, হ্যাভক ও কোবরা।
শিশুদের পণ্যের মধ্যে রয়েছে অলিভ অয়েল, ক্লিওকারপিন, আমলা, আফটার সেভ লোশন ইত্যাদি। ভিট হেয়ার রিমুভার, ক্লিন ক্লিয়ার, স্কিন সাইন বডি লোশন, ক্লিন ক্লিয়ার ফেসওয়াশ, ভ্যাসলিন হেয়ার টনিক, জিলেট ফোম ও হারবাল অ্যাসেনশিয়াল লোশন, সেভিং ফোম, সেভিং লোশন বা ক্রিম, পারফিউম, টেলকম পাউডার, বিউটি ক্রিম ও শ্যাম্পু।
এগুলো বিভিন্ন সেলুন ও হেয়ার ড্রেসিংয়ের দোকানগুলোতে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্যাসিষ্ট সরকার বিতারিত করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেকটা নিস্ক্রিয় হওয়ায় অবাধে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ নকল প্রসাধনী বিক্রেতারা।
শুধু মাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরব থাকায় নকল প্রসাধনী ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ ও নেয়া হচ্ছে না।
নীলফামারী জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রায় প্রতি মাসই ভেজাল বিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে।তবে  অনুমোদনহীন ও নকল প্রসাধনী বিক্রিতাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই নকল প্রসাধনী ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তারা।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নীলফামারীর সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, নকল প্রসাধনী বিক্রির বিরুদ্ধে অল্প দিনের মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।