সৈয়দপুরে ধর্ষণের পর হত্যা, দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
সৈয়দপুরে ধর্ষণের পর হত্যা, দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ীলফামারী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর কাঙ্গালুপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল করিমের ছেলে আনোয়ারুল হক এবং একই গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে ছামিউল ইসলাম ওরফে শুভ।

গতকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এ দণ্ড দেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, নীলফামারীর বিচারক জিয়াউদ্দিন মাহমুদ।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ভুক্তভোগী মৃত আকলিমা খাতুনের সঙ্গে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া রসুলপুর এলাকার মো. আনিসুর রহমানের ছেলে মো. শরিফুল ইসলামের ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর আকলিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় প্রায়ই তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসতেন। পরবর্তীতে আকলিমার মা মেয়েকে বুঝিয়ে আবারও শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আকলিমা আবারও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরের দিন, অর্থাৎ ২০২০ সালের ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে আকলিমাকে কোথাও খুঁজে পাননি তার মা মমতাজ বেগমসহ বাড়ির অন্যান্যরা।

২০২০ সালের ২২ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর মৎস্য খামারের পেছনে একটি জমিতে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশ থেকে আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন মৃত আকলিমার মা মমতাজ বেগম।

মামলা দায়েরের পর থেকেই নিবিড়ভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পায়, গৃহবধূ আকলিমাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে সাজাপ্রাপ্তরা।

নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান রিনো গতকাল সোমবার জানান, গৃহবধূ আকলিমা হত্যা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে মোট ১৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলাটি দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।