সৈয়দপুরে পুরোদমে চলছে আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ, মিলছে আশানুরূপ ফলন

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২২ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে পুরোদমে চলছে আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ, মিলছে আশানুরূপ ফলন

ীলফামারীর সৈয়দপুরে পুরোদমে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ। আবহাওয়া সম্পূর্ণভাবে আমন ধান চাষাবাদের অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি উপকরণ কৃষকদের হাতের নাগালে পাওয়ায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় সর্বত্র আমন ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। আর আমন ধানের দামও মিলছে ভালো। এতে কৃষক-কৃষাণীদের মুখে হাসির ঝিলিকল লক্ষ করা গেছে।

সরজমিনে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বাঙ্গালীপুর, বোতলাগাড়ী ও খাতামধুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্র আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। কোথাও কৃষকেরা ক্ষেতের পাকা ধান কাটছে, কেউ কেউ আবার শুকানোর জন্য ধান কেটে ক্ষেতে রেখে দিয়েছেন, কেউবা ক্ষেতে কেটে রাখা ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

অনেকে আবার বাড়ির উঠানে কিংবা খুলি বাড়িতে ধান মাড়াই ঝাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে কৃষকদের বাড়ির উঠান, খুলি বাড়ি, চাতাল কিংবা গ্রামের পাকা সড়কে চলছে আমন ধান ঝাড়াই মাড়াইয়ের কাজ। কৃষি শ্রমিকদের সঙ্গে কৃষক-কৃষাণীরাও ধান কাটা, বহন কিংবা মাড়াইয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কাজ করছেন। অনেকে আবার ধান কাটা মাড়াই শেষে ধান সিদ্ধ কিংবা সিদ্ধ ধান উঠানে শুকাচ্ছেন। এতে কৃষক-কৃষাণীদের দম ফেলারও সময় পাচ্ছেন না।

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের দলুয়ার কৃষক রুহুল আমিন জানান, এবারে আমন মৌসুমে প্রায় ৪০ দোন (৩০ শতকে এক দোন) জমিতে বিভিন্ন জাতে আমন ধান আবাদ করেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর সব জমির ধান কাটা শেষে শুকানোর পর বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। আরও কয়েক দিন দেরিতে মাড়াই-ঝাড়াইয়ের কাজ করবেন বলে জানান তিনি। নতুন ধান বিক্রি করে ভালো দাম মিলছে বলে জানান একই এলাকার কৃষক একরামুল হক।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা মিলে ৮ হাজার ১১৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তন্মধ্যে উফশী জাতের ৭ হাজার ৩১৫ হেক্টরে, হাইব্রিড জাতের ৮ শ’ হেক্টরে এবং স্থানীয় জাতের এক হেক্টর জমিতে। তবে চাষাবাদ অর্জিত হয়েছে ৮ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর কৃষি ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (ডিপ্লোমা) কৃষিবিদ মো. মমিনুর মোস্তফা জামান বলেন, এবারের আমন আবাদে কৃষকেরা অনেক ভাল ফলন পেয়েছেন। তিনি জানান, কৃষি বিভাগের তাঁর কৃষি ব্যাংকে কৃষক মোমিনুল ইসলামের একটি প্রদর্শনী প্লটে ব্রি-ধান ৭৫ কর্তন করে হেক্টরে প্রায় ৪.৬ মেট্টিক টন ফলন মিলেছে।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ধীমান ভুষন জানান, এবারে উপজেলায় আমন মৌসুমে ধান চাষাবাদের শুরু থেকে তাঁর দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষক-কৃষাণীদের পাশে থেকে সার্বিক দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন।

আর রোগ বালাইও অপেক্ষাকৃত কম ছিল। ফলে এবারের আমন ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার বেশির ভাগ আমন ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর সপ্তাহখানেকের মধ্যে পুরোদমে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হবে বলে জানান তিনি।