এবার মণিপুরি থিয়েটারের নটমণ্ডপে ৩ দিন ‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণ’

বিনোদন ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
এবার মণিপুরি থিয়েটারের নটমণ্ডপে ৩ দিন ‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণ’

ণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী বিশেষ ধরণের ঘর তৈরির কারিগর ধ্বজো মেস্তরীর জীবনের করুণ গল্প নিয়ে মণিপুরি থিয়েটারের নাটক ‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণ’। আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগে ২০০৫ সালে মঞ্চে এসেছিল নাটকটি। বেশ কয়েকটি শোয়ের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

এবার নানান পরিমার্জন-সংযোজনের মধ্য দিয়ে নতুন অবয়বে নাটকটি আবার মঞ্চে আনছে দলটি। কাজ করছেন পুরনোদের সাথে একঝাঁক নতুন অভিনয়শিল্পী। আগামী ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের ঘোড়ামারা গ্রামে মণিপুরি থিয়েটারের নটমণ্ডপে নাটকটির ৫টি প্রদর্শনী হবে। ১১ তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়, ১২ তারিখ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়, এবং ১৩ তারিখ শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নাটকটির মোট পাঁচটি প্রদর্শনী হবে, দর্শনীর বিনিময়ে।

সর্বনিম্ন ৫০ ও সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে টিকেট থাকবে। শোয়ের আগে কাউন্টারে টিকেট পাওয়া যাবে, তবে অগ্রিম আসন নিশ্চিত করতে, যোগাযোগ করা যাবে এই নাম্বারে – ০১৭২০৮০৮৪৮২। স্মৃতিকুমার সিংহের গল্প অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশিস সিনহা।

বাংলা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষার সংমিশ্রিত এ নাটকে কথক বা সূত্রধারের ভূমিকায় আছেন জ্যোতি সিনহা, তরুণ ও বৃদ্ধ ধ্বজোর ভূমিকায় যথাক্রমে সমরজিৎ সিংহ ও বিধান সিংহ। আরো আছেন স্বর্ণালী সিনহা, শিউলি সিনহা, সুবর্ণা সিনহা, রাজকান্ত সিংহ, দীপ্ত সিংহ, রুহিত সিংহ, সীমান্ত সিংহ, অনন্যা সিনহা, স্বর্ণালী শর্মা প্রমুখ। সংগীতে শর্মিলা সিনহা, বাদ্যে রনি সিংহ ও অঞ্জনা সিনহা। আলোক পরিকল্পনায় আসলাম অরণ্য।

পোস্টার করেছেন সজলকান্তি সিংহ। ব্যবস্থাপনায় আপন সিংহ ও দেবজিৎ সিংহ। মণিপুরি পাড়ার নামকরা মিস্ত্রি ধ্বজোর হাতের গড়া ঘরগুলো যখন কালের আবর্তে সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তখন তার হাতের মিস্ত্রিবিদ্যার একমাত্র চিহ্ন হয়ে ছিল তার নিজের বাড়িটি, আধুনিকতার হাতছানিতে তার ছেলেরাই একদিন নতুন দালান তৈরির জন্য তাও ভেঙে ফেলে। ধ্বজোর সকল কর্ম, ঘরটিকে নিয়ে তার সকল স্মৃতি লুপ্ত হয়ে গেল।

এর মধ্য দিয়ে যেন প্রান্তিক ইতিহাসের গৃহনির্মাণবিদ্যার এক অধ্যায়েরও শেষ হয়ে গেল। পাড়ার লোকজন যখন কৃত্যমতে পুরনো সে বাড়ির ভগ্নাবশেষ নিয়ে দূরে ফেলে দিতে যায়, ধ্বজো দ্যাখে – যেন ওরা তারই লাশ বহন করে চলেছে।

নাটকের আয়োজনটিকে কেন্দ্র করে মণিপুরি পাড়ায় উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটকটি প্রদর্শিত হয়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।