নিষ্ঠুর পরিবারের ফেলনা শিশুকে কুড়িয়ে নিলেন মানবিক পরিবার

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
নিষ্ঠুর পরিবারের ফেলনা শিশুকে কুড়িয়ে নিলেন মানবিক পরিবার

াজীপুরের কালিয়াকৈরে রাঁতের আধাঁরে নিষ্ঠুর পরিবারের ফেলে দেওয়া ছোট শিশুটি এখনো জীবিত। মানবিকতা আজ কোথায়? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

অথচ সেই ছোট শিশুকে কুড়িয়ে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন আরেক মানবিক পরিবার। সোমবার সকালে উপজেলার বোর্ডঘর দাড়িয়াপুর এলাকায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বোর্ডঘর দাড়িয়াপুর এলাকায় গত রবিবার রাঁতের কোনো এক সময় ছোট ফুটফুটে শিশু বাচ্চাকে ফেলে যান কোনো এক নিষ্ঠুর পরিবার। পরের দিন সোমবার ভোরে ওই এলাকার বোর্ডঘর-উত্তর দাড়িয়াপুর সড়কের একটি ব্রীজের পাশে ফুটফুটে ওই শিশু বাচ্চা পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী।

রাঁত পেরিয়ে সকাল হলেও কনকনে শীতেও এখনো শিশুটি জীবিত। তার নাক, মুখ, চোখ, মাথাসহ পুরো শরীর বালু মাটিময় ছিল। তার পায়েও কোনো হাসপাতালের নাম্বার ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কে বা কাহারা রাঁতের আধাঁরে ওই ফুটফুটে শিশুটি সেখানে ফেলে রেখে গেছে।

ওই শিশুটি ছেলে বাচ্চা, তার বয়স আনুমানিক এক থেকে দুদিন হবে। মুহুর্তের মধ্যে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে উঠে। আর ওই ফুটফুটে শিশুর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন সেখানে ভীড় করেন। এতো মানুষের ভীড়ে ফেলনা ওই ফুটফুটে শিশুকে তুলে নিলেন ওই এলাকার সালাম হোসেন ও তার পরিবার।

তাৎক্ষণিক তার প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার-দাবার ও পোষাকের ব্যবস্থা করলেন ওই মানবিক পরিবারটি। পরে তারা বিষয়টি কালিয়াকৈর থানা, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ সবাইকে অবগত করেন। এসময় মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে ফুটফুটে শিশুকে ফেলে দেওয়ার মতো এমন জঘন্যতম কাজ করতে পারেন। এ নিয়ে প্রশাসনসহ নানা মহলে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠে। কিন্তু ওই শিশুকে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নেন তাকে উদ্ধারকারী স্থানীয় সালাম ও তার পরিবার। তাদের এমন মানবিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন প্রশাসন, ইউপি সদস্যরাসহ বিভিন্ন মহলের মানুষ। কিন্তু তাদের পরিবারে আগে থেকেই ৪র্থ শ্রেনীতে পড়–য়া সামিরা সুলতানা ও ১ম শ্রেনীতে পড়–য়া সাবিলা নুর নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

তারপরও নতুন অতিথি ছেলে শিশুকে পেয়ে খুশি ওই পরিবারের সবাই। এ ঘটনার পর মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে প্রসংশায় ভাসছেন ওই মানবিক পরিবার। ওই শিশুর নতুন বাবা সালাম হোসেন বলেন, সকালে হাটতে বের হলে ওই ব্রীজের পাশে লোকজন দেখে এগিয়ে যাই। এসময় সেখানে ওই ফুটফুটে শিশুকে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের জানালে তারা থানাও অবগত করেন। পরে তাকে তুলে নিয়ে তার চিকিৎসাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তার পরিবারের খোঁজ না পেয়ে তাকে আমরাই লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রশাসনসহ সবাই সমর্থন দিয়েছেন। আর ফুটফুটে নতুন অতিথি পেয়ে আমি, আমার দুই মেয়েসহ পরিবারের সবাই খুব খুশি হয়েছেন। আমরা যতœ সহকারে তাকে মানুষের মতো মানুষ তৈরি করবো।

এব্যাপারে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল ইসলাম জানান, ওই শিশুর বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। কিন্তু ওই শিশুকে কুড়িয়ে নিয়ে যে পরিবার তাকে লালন-পালন করছেন, নিশ্চয় এটা একটি প্রশংসনীয় কাজ করছেন। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।