ভুমিকম্পে ধ্বংসে পড়ার আশংকায় রেলওয়ের একাধিক ভবন, কোয়ার্টার

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
ভুমিকম্পে ধ্বংসে পড়ার আশংকায় রেলওয়ের একাধিক ভবন, কোয়ার্টার

ারা দেশের ন্যায় সৈয়দপুরেও ভুমিকম্পে ঘরবাড়ি ও ভুমি ধ্বংসের আতংকে রয়েছেন প্রায় সকলেই। বেশ কিছু দিন থেকে দেশের কোথাও না কোথাও ভুমিকম্প অনুভুত হওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরের মানুষের মাঝে ও আতংক তীব্র হতে শুরু করেছে। সম্প্রতি সারা দেশের ন্যায় সৈয়দপুরেও ৫.৫ মাত্রায় ভুমিকম্প অনুভুত হওয়ায় ওই আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৮৭০ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল কারখানা নির্মান করা হয় নীলফামারীর সৈয়দপুরে। ওই সময় রেলওয়ের এ্যাকোয়ার কৃত সারে ৮শত একর জমির মধ্যে ১১০ একর জমির উপর কারখানা ও কারখানায় কর্মরত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ২৮ শত কোয়ার্টার এবং ১৮টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৬ সালের পর থেকে একে একে অবসরে গিয়ে বর্তমানে শ্রমিক কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। আর বসবাসের ভবন ও কোয়ার্টার দেখাশুনা ও সংস্কারের অভাবে প্রায় সব ভবনে ফাটল ধরেছে। প্লাষ্টার খুলে পড়ে যাচ্ছে। ভবনে গজিয়েছে বড় বড় গাছ।

ভবন গুলো রেলওয়ের ঐতিহ্য হলেও সংস্কারের অভাবে তা যেকোন সময় ধ্বসে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। রেলবিভাগের সম্পদ রক্ষায় দেখার কেউ না থাকায়, ধ্বসে পড়ার আশংকা থাকার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওইসব ভবনে বসবাস করছেন অনেক ভুমিহীন পরিবার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্#৩৯;জন রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান,জনবল সংকটে দেশের বৃহত্তর এই কারখানায় এমনিতেই উৎপাদনে ধ্বস নেমেছে। জনবল বৃদ্ধি হলে একদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি হতো, অন্য দিকে বসবাসের জন্য সংস্কার হতো ভবন ও কোয়ার্টার। তারা বলেন, বিগত দিনে অনেক মন্ত্রী রেলওয়ের এই বিশাল কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন।

আধুনিকায়ন করতে বিগত দিনে ২২২ কোটি টাকা বরাদ্দে কিছুটা হলেও উন্নয়ন হয়েছে কারখানাটি। সুপারিশ ও অর্থ নিয়ে নেতাদের চাপে চুক্তি ভিত্তিক শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হলেও বৃদ্ধি করা হয়নি পারমানেন্ট জনবল। সংস্কার করা হয়নি ভবন ও কোয়ার্টার। রেলকারখানায় পার্মানেন্ট জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবন ও কোয়ার্টার উদ্ধার করে সংস্কার করলে রেলওয়ে তাঁর ঐতিহ্য ফিরে পাবে।আর তা না হলে জরাজীর্ণ রেলওয়ের ওই ভবনগুলোতে বসবাসকারীরা ৬ মাত্রায় ভুমিকম্প হলেই পিষ্ট হয়ে মারা যাবেন বলে জানান তারা।

রেলওয়ের ঝুঁকি পুর্ন ভবনে বসবাস কারি সোলেমান আলী বলেন, রেলওয়ের এক কর্মকর্তাকে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে প্রায় ৬ বছর আগে এই ভবনে বসবাস শুরু করি। ওই কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর ২ বছর থেকে বিনা ভাড়ায় বসবাস করছি। কিন্তু স্ত্রী সন্তান নিয়ে সব সময় আতংকে থাকি। দেশে যেভাবে দফায় দফায় ভুমিকম্প হচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় পিষ্ট হয়ে মারা যেতে পারি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি জানান, বর্তমান সরকার দৃষ্টি দিলেই রেলওয়ের ঐতিহ্য ফিরানো সম্ভব। একই সাথে রেলওয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস কারি ভুমিহীন পরিবাররা ভুমিকম্পে পিষ্ট হয়ে মারা যাওয়া থেকে বেঁচে যাবে।