রেললাইন ঘেঁষে পুরাতন গরম কাপড় বিক্রি, দুর্ঘটনার আশংকা

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
রেললাইন ঘেঁষে পুরাতন গরম কাপড় বিক্রি, দুর্ঘটনার আশংকা

্রতিটি শীত মৌসুমের ন্যায় চলতি শীত মৌসুমেও সৈয়দপুরে রেললাইন ঘেঁষে পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানপাট বসেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সব শ্রেনির ক্রেতারা ভীর করছেন ওইসব দোকানে। এতে করে যে কোন সময় ট্রেন চলাচলে ঘটতে পারে প্রানহানির ঘটনা। রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার, পৌর কর্তৃপক্ষ লোক মারফত দৈনিক হারে অর্থ আদায় করে বলে রেললাইনে প্রানহানির ঘটনা ঘটার আশংকা থাকলেও কেউ আমলেই নিচ্ছেন না।

শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার মনোয়ার ইকবাল বলেন, শীত মৌসুমে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অনেক মানুষ পুরাতন গরম কাপড় বিক্রয় করতে শুরু করেন। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের সমাগমও ঘটে প্রচুর। শীতের তিব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেললাইনের পাশে ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে যে কোন সময় যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তা কেউই ভেবে দেখছেন না। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ও দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইন সংলগ্ন সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা জরুরি।

রেললাইন ঘেঁষে বসা দোকানিরা বলেন, রেললাইনের পাশে দোকান বসানো আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু সংসারের কথা ভেবে ঝুঁকির মাঝেও দোকান বসানো হয়েছে।

তাছাড়া বাজারে এক একটি দোকানের ভাড়া ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। উপরি অগ্রীম মোটা অঙ্কের অর্থ না দিলে দোকান মিলে না। সেখানে রেললাইনের পাশে দোকান বসালে স্টেশন মাস্টারকে দোকান প্রতি প্রতিদিন ৫০ টাকা আর পৌর পরিষদকে দৈনিক ১০০ টাকা দিলেই হয়।

ট্রেনচালক সবুজ বলেন, সৈয়দপুর শহরের ১নং রেল গুমটি থেকে রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করতে হয়। রেললাইনের দুপাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে প্রায় হাজারখানেক পুরোনো গরম কাপড়ের দোকানসহ হোটেল-রেস্তোরা ও প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান। পার্বতীপুর থেকে সৈয়দপুর দ্রুতগতিতে ট্রেন চলাচল করার কথা থাকলেও পুরোনো গরম কাপড়ের দোকান সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা অবলম্বন করে একেবারেই ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, রেললাইন সুরক্ষায় লাইনের দুপাশে বেড়িয়ার দিয়েছেন রেলকর্তৃপক্ষ, কিন্তু দোকানিরা সেই বেড়িয়ার ঘেঁসেই দোকান ঘর নির্মান করেছেন।

সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রতন বলেন, যারা স্টেশন মাস্টারের কথা বলে অবৈধভাবে বসা দোকানিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে, তাদের চিহ্নিত করে অবৈধভাবে বসা সব দোকানপাট উচ্ছেদ করা দরকার। তিনি বলেন, ট্রেন চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত ও দুর্ঘটনা এড়াতে ওইসব দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য উপর মহলকে অবগত করা হয়েছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুন্নবী বলেন, রাজনৈতিক কিছু নেতার দাপট দেখিয়ে দোকানিরা রেললাইন ঘেঁষে দোকানপাট গড়ে তুলেছেন। যা ট্রেন চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারে জেনেও দোকানিরা দোকান বসিয়েছেন। মানুষের সুরক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ সব দোকানপাট গুড়িয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।