আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নারীর ইশতেহার’ প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নারীর ইশতেহার’ প্রকাশ

সন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় ‘নারীর ইশতেহার’ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ জোরদারে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।

ইশতেহারের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও, তারা এখনও সহিংসতা, বৈষম্য, অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং রাজনৈতিক অদৃশ্যতার মতো বাস্তবতায় আটকে রয়েছে দীর্ঘদশক ধরে সংগ্রাম ও অগ্রগতির পরও। তবুও গ্রাম, শহর, বিশ্ববিদ্যালয়, কারখানা, বাজার এবং ডিজিটাল পরিসর– সব জায়গাতেই নারীরা সাহস এবং ঐক্যের সঙ্গে তাদের কণ্ঠ তুলে ধরছেন।

এই নারীর ইশতেহার একটি স্বেচ্ছাসেবী জাতীয় প্রক্রিয়ার ফল। ফেমিনিস্ট কো-ক্রিয়েশন ক্যাফে উদ্যোগ, ব্যাপক কমিউনিটি আলোচনা এবং সকল সামাজিক-অর্থনৈতিক পটভূমির হাজার হাজার নারীকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত একটি জাতীয় জরিপ। তাদের মূল বার্তা সরল: নারীদের চাহিদা প্রতিফলিত না হলে কোনো নির্বাচনী ইশতেহারই পূর্ণাঙ্গ নয়।

এই বুকলেটে উপস্থাপিত হয়েছে ১২টি কেন্দ্রীয় দাবি যেগুলো নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত এবং এমনসব কার্যকর সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত, যা রাজনৈতিক দলগুলো অবিলম্বে ও দৃশ্যমানভাবে গ্রহণ করতে পারে। এটি কোনো একাডেমিক নথি বা এনজিও প্রকল্প নয়; বরং নারীর নিজস্ব ভাষায় একটি তৃণমূল স্তরের রাজনৈতিক দাবি।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাই এই দাবিগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রহণ, সমর্থন, এবং অন্তর্ভুক্ত করার জন্য, যাতে গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাংলাদেশের প্রতিটি নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং সমতার নিশ্চয়তায় প্রতিফলিত হয়।

ইশতেহারের দাবিগুলো হলো-

* নারী ও কন্যা শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ
* যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর)
* রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব, ও নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণ
* শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও জেন্ডার-সংবেদনশীল পাঠ্যক্রম
* সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষা
* নিরাপদ যাতায়াত, কর্মপরিবেশ, ও নারী বান্ধব অবকাঠামো
* আইন সংস্কার ও সমঅধিকার বাস্তবায়ন
* অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও পরিচর্যা কাজের স্বীকৃতি
* ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও সাংস্কৃতিক বাঁধা প্রতিরোধে প্রান্তিক নারীদের অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্ব
* মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা শক্তিশালীকরণ
* জলবায়ু ন্যায়বিচার ও নারীর অধিকার