ভোলার চরফ্যাশনে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত-বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত-২৫

শরীফ হোসাইন, বিশেষ প্রতিনিধি ভোলা ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
ভোলার চরফ্যাশনে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত-বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত-২৫

োলার চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে দোকানে অবস্থানকালে বিএনপির কর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হন এক জামায়াত কর্মী। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ১২টার দিকে উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে এ্যাম্বুলেন্সের গতি রোধ করে ফের তাকে মারধর করা হয়। অন্যদিকে চরফ্যাশন হাসপাতাল প্রাঙ্গনেও বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াত ও বিএনপির অন্তত ২৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসাপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন এবং আরো ২জন কর্মী গুরুত্বর আহত হওয়ায় তাদের ভোলা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে দাঁড়িপাল্লা মার্কার গণসংযোগ শেষ হওয়ার পর জামায়াত কর্মী ও গ্রাম্য ডাক্তার জামাল তার ফার্মেসীতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় ৩ জন বিএনপি কর্মী তার ফার্মেসীতে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে গণসংযোগে অংশ না নিতে হুমকি প্রদান করেন।

কারণ জানতে চাইলে তাকে মারধর করা হয়। এতে তিনি বুকে ও পিঠে গুরুতর আঘাত পেয়ে আহত হন। আহত জামালকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জামায়াত নেতাদের অভিযোগ। পরে পুলিশ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে চকবাজার এলাকায় আবারও এ্যাম্বুলেন্সসহ জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বিএনপির কর্মীরা।

এদিকে আহতদের নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণেও উভয় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিনকে ভোলায় রেফার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল এলাকায় নৌবাহিনী টহল করতে দেখা গেছে।

জেলা জামায়াতের মিয়া সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে চরফ্যাশন শাখার উদ্যোগে নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করছিল। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে নেতা-কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতাভাবে ৯নং ওয়ার্ডের জামায়াতের নেতা-কর্মীরা গণসংযোগ করতে গেলে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে জামায়াতের একাধিক কর্মী গুরুতরভাবে আহত হন।

আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সময় হামলাকারীরা এ্যাম্বুলেন্সের পথ রোধ করে পুনরায় হামলা চালিয়ে আরও মারাত্মকভাবে জখম করে। এক পর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ বাঁধা দিলে হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চরমভাবে অবনতি ঘটায়-যা রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলার নেতৃবৃন্দ এই সন্ত্রাসী হামলার তীব প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়েছে।

হাসপাতালে আহতদের দেখতে এসে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল বলেন, এই পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনীয় প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত বিএনপির কর্মীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দীন বলেন, জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলার পর হাসপাতাল চত্বরে প্রশাসনের সামনে আবারও দুই দফা হামলা ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি আরো বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরাই নির্বাচনী পরিবেশ নস্ট করছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে প্রশাসনকে আরো কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ইসলামী সমমনা ৮ দল কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সোহেল বলেন, ওষুধ ক্রয়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের লোকজন প্রথমে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে বিএনপির ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। মূলত তারা আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ করছে।
চরফ্যাশন উপজেলা যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, চকবাজার এলাকায় উভয় দলের গণসংযোগ চলাকালে জামায়াতের গণসংযোগে অংশ নেওয়া যুবলীগের জামালসহ জামায়াতের কিছু লোক বিএনপির গণসংযোগে হামলা চালায়। এতে আমাদের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তখন উভয় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে।

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।