কেমন-আছেন-শহীদ-আজাদের-মা! পাননি ২০২৫ সালের বিজয় দিবসের আমন্ত্রণ

আমিনুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
কেমন-আছেন-শহীদ-আজাদের-মা! পাননি ২০২৫ সালের বিজয় দিবসের আমন্ত্রণ

বুল কালাম আজাদ ৭ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর কামরুজ্জামানের অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ১৭ জুলাই সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

ননী বেওয়া। সিরাজগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া স্কুল রোডের বাসিন্দা। মুক্তিযুদ্ধে সন্তানকে হারিয়েছেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর হারিয়েছেন স্বামী। দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে সংসার ননী বেওয়ার। সম্প্রতি তার ‌এক মেয়ে মারা গেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রশাসনের দেয়া ৮ শতক জমি এবং পাশে ২৯ শতকের একটি পুকুর বার্ষিক ইজারা নিয়ে চলছে তার পরিবার। মেয়ে আর নাতিদের নিয়ে কোনোরকমে চলছে তার সংসার। ১৯৭৩ সাল থেকে এই জমিতে বসবাস করে এলেও সরকারিভাবে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি।

১৯৪৬ সালে স্থানীয় জানপুর মহল্লায় জন্ম নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল কালাম আজাদ। স্থানীয় ভিক্টোরিয়া স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে তিনি রওনা হন ভারতে। ৭ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর কামরুজ্জামানের অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৭ জুলাই সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন আবুল কালাম আজাদ।

পরে এক শোকবার্তায় আবুল কালাম আজাদের শহীদ হওয়ার সংবাদটি নিশ্চিত করে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক বরাবর ১ হাজার টাকা পাঠান। সে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে এই শহীদ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য একটি বাড়ি ও পুকুর দেয়ার নির্দেশ দেন।

প্রায় ৫ দশক সময় পেরিয়ে গেলেও শহীদ মাতাকে ওই বাড়ি ও পুকুর স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি। সরকার পরিবর্তন হলে ঝামেলায় পড়তে হয় এটির মালিকানা নিয়ে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন নির্দেশনার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এজন্য এই শহীদ মাতা বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা নিয়ে বাড়িটিতে বসবাস করছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল কালাম আজাদেদ মাকে সরকারিভাবে দেয়া লিজের বাড়িতে ১৯৮৫-৮৬ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। শহীদ আবুল কালাম আজাদ স্মৃতিসৌধের অনেক অংশ দেবে গেছে, কিছু অংশ ভেঙে গেলেও তা আর সংস্কার করা হয়নি।

ননী বেওয়া প্রতি বছর সন্তানের স্মৃতিফলক নিজে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করলেও বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ এই পরিবারকে দাওয়াতপত্র দেয়া হলেও এখন দেয় না।

‘মুক্তিযুদ্ধ করে এমন বাংলাদেশ গড়তে আমার সন্তান প্রাণ দেয়নি।বিগত জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ দেরিতে হলেও মহান বিজয় দিবসের একটি দাওয়াতপত্র ননী বেওয়াকে পাঠিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা গাজী ফজলুর রহমান খানের মাধ্যমে। তারপর থেকে আর কোন পত্র এই বাড়িতে আসেনি বলে জানান শহীদ পরিবারের সদস্যরা। ননী বেওয়া বলেন, ‘মৃত্যুর পর আমার কন্যার কী অবস্থা হবে, এটাই এখন ভাবনার বিষয়।

রোগ-শোকে ক্লান্ত শহীদ মাতা ননী বেওয়ার বর্তমান দেখাশোনা করছেন তার মেয়ে হাসনাহেনা। তার মতে, দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছে, তাদের নামের তালিকার ওপর ধুলা পড়ছে। খোঁজ নিচ্ছে না কেউ।

বিজয় দিবসের আমন্ত্রণপত্র বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক গাজী আজিজুর রহমান দুলাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলো তিনি বলেন এগুলো জেলা প্রশাসক করে থাকে আর কমান্ডাররা জানে আমি কিছু বলতে পারব না।