উলিপুরে সুদানে নিহত মমিনুলের লাশ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত

কুড়িগ্রাম ব্যুরো ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
উলিপুরে সুদানে নিহত মমিনুলের লাশ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত

াড়ে চার বছরের ছোট মেয়ে মারিয়া বোঝেনা তার বাবা চিরতরে হারিয়ে গেছে। চারিদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। স্বজনরা আহাজারি করছে, মারিয়া শুধু অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখছে।অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া বড় মেয়ে মাইশা জাহান মিমি বারবার মুছা যাচ্ছে।আর মারিয়ার মা অচেতন হয়ে ঘরের ভিতর পড়ে আছে। চারিদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ, হাজারো মানুষকে কেঁদে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুদানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ড্রোন হামলায় নিহত সেনা সদস্য মমিনুল।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিচ্ছিন্নতাবাদীর ড্রোন হামলায় নিহত মমিনুলের মরদেহ সামরিক মর্যাদায় জানাজা শেষে বিকাল ৪ টায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
এর আগে দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর একটি হেলিকপ্টার যোগে মমিনুলের মরদেহ উলিপুর হেলিপ্যাডে অবতরণ করে।

সেখানে চিলমারী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন তামিম মরদেহ রিসিভ করে সড়কপথে নিয়ে যান মমিনুলের গ্রামের বাড়ি পান্ডুল ইউনিয়নের উত্তর পান্ডুল পারুলের পাড় গ্রামে। মমিনুলের মরদেহ পৌঁছানোর সাথে সাথে সেখানে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অবতারণা হয়।

একদিকে, জানাজা নামাজের প্রস্তুতি আর অন্যদিকে, মমিনুলের নারী স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।

পারিবারিক সুত্র জানায়, মমিনুল ইসলাম ১৮ বছর আগে সৈনিক পদে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। চলতি বছরের ৫ নভেম্বর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান তিনি। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ড্রোন হামলায় নিহত হন মমিনুলসহ আরো ৫ সেনা সদস্য।

মমিনুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। শান্তি মিশনে যাওয়ার আগে বাড়িতে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে মমিনুল বলেছিলেন, মা আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো। মাত্র এক মাসের মাথায় মমিনুল ফিরে আসলো ঠিকই কিন্তু লাশ হয়ে। হাজারো মানুষকে কাঁদায়ে মমিনুল চলে গেল না ফেরার দেশে।