কুয়াশা আর ঠান্ডায় কুপকাত সৈয়দপুরের জনপদ

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
কুয়াশা আর ঠান্ডায় কুপকাত সৈয়দপুরের জনপদ

ুয়াশার সাথে হিমেল হাওয়ার প্রভাবে বেড়েছে শীত। রাত থেকে সকাল ১০/১১ টা পর্যন্ত হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে সৈয়দপুরের জনপদ। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভোর থেকে সকাল ৭/৮ টা পর্যন্ত বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝরছে কুয়াশা। গত তিন দিন থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের।

গভীর রাত থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে সারা সৈয়দপুর উপজেলা। একারণে সকাল ৮টা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে বিভিন্ন যানবাহন। এসময় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমান ওঠা নামায় বিঘ্ন ঘটছে। রবিবার ২১ ডিসেম্বর সকাল ৭টায় সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। শীতের এ প্রভাব আরও কয়েক দিন থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

দিনের তাপমাত্রার চেয়ে রাতের তাপমাত্রা অনেক কম হওয়ায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। গ্রাম গন্জের মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। প্রচণ্ড শীতে কাজে বের হতে পারছে না শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ঘন কুয়াশা আর ঠাণ্ডায় নষ্ট হচ্ছে ধানের বীজতলা ও আলুক্ষেত। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

রবিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাতভর পড়া কুয়াশায় ভিজে আছে বীজতলা । তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে ২৫ শতাংশ মানুষ কাজের সন্ধানে ছুটছে। তবে শহরে মানুষের গরম কাপড়ের দোকানপাট ছাড়া অন্যান্য এলাকায় সমাগম থাকছে কম।

হঠাৎ ২/৩ দিন থেকে শীত বেড়ে যাওয়ায় রেললাইনের ধারে ও ফুটপাতে গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। কিছুটা কম দামে শীতের কাপড় কিনে শীত নিবারণের আশায় দোকানগুলোতে ছুটছে ক্রেতা সাধারন।

মজনু নামের এক অটোরিকশা চালক বলেন, ২/৩ দিন থাকি ঠান্ডা খুব বেশি হইছে। সকাল থাকি দুপুর বেলা কুয়াশাত আস্তা দেখা যায়ছে না। বাড়িত বেইচ্ছা ছাওয়াক ভোকোত থুবার পাইম না বলি কামাই করির ব্যার হছু।

এদিকে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের হারও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতাল গুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ওয়াসিম বারি জয় বলেন, এই আবহাওয়ায় শিশু ও বয়স্করাই বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সকলকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।