সৈয়দপুরে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভোগান্তি

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
সৈয়দপুরে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভোগান্তি

ত্তরাঞ্চলের শিল্প ও বানিজ্যিক শহর হিসেবে খ্যাতো নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা। আয়তনে বড় না হলেও প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বাস এ উপজেলায়। প্রায় প্রতিদিন নীলফামারী ও আশপাশ জেলা, উপজেলার কয়েক হাজার লোক ব্যবসা ও নিজ প্রয়োজনে আসেন এ উপজেলায়। ব্যবসা ও যোগাযোগে সুব্যবস্হায় রয়েছে একাধিক ট্রেন, বাস বিমান চলাচল।

তবে শহরের মার্কেটের ভিতরের সড়ক গুলোর অবস্থা করুন। ব্যবসায়িরা তাদের দোকানকে গোডাউন আর সড়ক দখল করে দোকান গড়েছে। ফলে ৬০/৭০ ফুট চওড়া সড়ক হয়েছে ৮/১০ ফুটে। আর ফুটপাত দেখাও যাচ্ছে না। এরফলে রিক্সা চলাচল করতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। এছাড়া যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত দখলসহ অব্যবস্থাপনায় শহরে যানজট সমস্যা পৌরবাসীর নিত্যদিনের ভোগান্তি কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, সৈয়দপুর-রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারীসহ পাঁচটি সড়কের সংযোগস্থল হলো সৈয়দপুরের পাঁচমাথা মোড়। দিনের বেলা পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ, কার ও মাইক্রোবাসের সঙ্গে প্রায় ৫ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে শহরে। যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ও পণ্য ওঠানামা করেন চালকরা। এরফলে ভোগান্তির অন্ত নেই শহরবাসীর।

শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে রেলওয়ের জায়গায় অসংখ্য বহুতল মার্কেট গড়ে উঠেছে। তবে পার্কিংয়ের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয়নি। অথচ মার্কেটগুলোয় ব্যাংক-বীমাসহ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কেনাবেচা চলছে ধুমছে। বাধ্য হয়ে গ্রাহকরা ব্যক্তিগত যানবাহন সড়কে রেখে কেনাকাটা করেন।

শহীদ ডা. শামসুল হক সড়কের দোকানগুলোর সামনে দোকানের ভাড়াটিয়ারাই ফুটপাত দৈনিক ২/৩ শত টাকা হারে আরেকজনকে ভাড়া দিয়েছেন। পোস্ট অফিস মোড় ও পুলিশ বক্সের সামনে দোকানগুলো অস্থায়ী অবকাঠামোর হলেও যুগযুগ ধরে রাস্তা দখল করে তারা ব্যবসা করে আসছেন।

জানা যায়, পৌরসভায় প্রায় চার হাজার রিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার লাইসেন্স থাকলেও চার হাজারের বেশি এসব যানবাহন শহরে চলাচল করছে। আবার বাহিরের জেলা থেকেও দুই হাজার মতো অটোরিকশা ঢুকছে। এসব যানবাহনের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আমিরুল ইসলাম, সোলেমান ইসলাম ও রিক্সা চালক ওমর ফারুক সহ কয়েকজন পথচারী বলেন, আগে দেখতাম দিনের বেলায় যানজট থাকতো। এখন রাত ১১টা পর্যন্ত বিএনপি অফিস থেকে পুলিশ বক্স পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ৪০০ মিটার সড়ক পার হতে সর্বোচ্চ ৩ মিনিট লাগার কথা, সেখানে ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। অথচ পৌর প্রশাসন যানজট নিরসনে কোনো উদ্যোগেই নিচ্ছে না। অনেকে বলেন, পৌর সভাটি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ৪ জন কর্মচারীর দ্বারা। তারা ২০২৪ সালে ছিল পৌরসভার বেতনের উপর নির্ভর কিন্তু ৫ আগষ্টের পর তারা একেকজন কোটি পতি।

বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জানান, বিমানবন্দরের কারণে সৈয়দপুর ছাড়াও আশেপাশের জেলা উপজেলা থেকে প্রতিদিন শতাধিক মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ অসংখ্য যানবাহন শহরে প্রবেশ করায় যানজটের মাত্রা আরও বেড়ে যায়া। তাই সড়কগুলো প্রশস্ত করাসহ ফুটপাতগুলো উচ্ছেদ করা জরুরি হয়ে গেছে। তা না হলে শহরে বাস করাই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

এদিকে জনবল সংকটসহ নানা কারণে যানজটমুক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানান ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মাহফুজার আলম। তিনি বলেন, মূলত চারটি কারণে সৈয়দপুর শহরে যানজট বেড়েছে। এগুলো হচ্ছে- অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচল, ফুটপাত দখল করে ফলের দোকান ও কাপড়ের দোকান বসা, যত্রতত্র অটোরিকশা রেখে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং দিনের বেলায় শহরের ভেতর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ। এসব কারণে শহরের ব্যস্ততম পাঁচমাথা মোড়, মদিনা মোড়, তামান্না সিনেমা হলের সামনে ও পোস্ট অফিস মোড়ে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও সমস্যার শেষ নেই।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিমা তাকমিনা বলেন, আমি সদ্য সৈয়দপুর উপজেলায় যোগদান করেছি। আমাকে একটু সময় দিন, শহর যানজট মুক্ত করতে যা যা করনীয় তা করবো। কারন আমি অনিয়ম, দুর্নীতি সহ মানুষের ভোগান্তি সহ্য করতে পারি না। আপনারা পাশে থাকুন সব ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।