গাজীপুর-১ আসন

মনোনয়নপত্র কিনলেন জমিদারবাড়ির দুই ভাই,আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:০০ অপরাহ্ণ
মনোনয়নপত্র কিনলেন জমিদারবাড়ির দুই ভাই,আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসনে মনোনয়নপত্র কিনেছেন বলিয়াদী জমিদারবাড়ির আপন দুই ভাই ইশরাক সিদ্দিকী ও ইরাদ সিদ্দিকী। তারা গাজীপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ওই আপন দুই ভাইয়ের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় নির্বাচনী এলাকায় বেশ আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারন ভোটার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সন্নিকটে গাজীপুর জেলার ৫টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গাজীপুর-১ আসন। কালিয়াকৈর উপজেলা, কালিয়াকৈর পৌরসভা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১৮নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনটি।

গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা। কিন্তু এখানে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌরসভার বার বার নির্বাচিত সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। পরে তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় কালিয়াকৈর থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সোমবার মনোনয়নপত্র কিনেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। শুধু তিনিই নন, তাঁর বড় ভাই চৌধুরী ইরাদ আহামেদ সিদ্দিকীও রবিবার বাংলাদেশ লেবার পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী চৌধুরী তানবীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে ও কালিয়াকৈর উপজেলার বলিয়াদী জমিদারবাড়ির আপন দুই ভাই।

ইশরাক সিদ্দিকী ও ইরাদ সিদ্দিকী তারা দুজনেই গাজীপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আর বলিয়াদী জমিদার বাড়ির আপন দুই ভাই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় এলাকায় বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীর সমর্থকরা। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ইশরাক সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তার বহিষ্কার দাবী করছেন ধানের শীষের সমর্থকরা।

এ বিষয়ে চৌধুরী ইরাদ আহামেদ সিদ্দিকীর দাবী করে বলেন, আমি যেহেতু বিএনপির প্রভাবশালী নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর বড় ছেলে, সেহেতু ধানের শীষে আমার মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চক্রান্ত করে আমাকে কৌশলে বাইরে রাখা হয়েছে। আর আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে, যার কারণে আমি মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমি বাংলাদেশ লেবার পার্টি (আনারস) থেকে নির্বাচন করব। জনগণ আমাকেই নির্বাচিত করবেন বলেও দাবী করেন তিনি।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন কিনা? জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইশরাক সিদ্দিকী বলেন, মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়?

গাজীপুর-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, এ আসনে এখন পর্যন্ত সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয় কালিয়াকৈর থেকে ৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এছাড়াও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় গাজীপুর থেকে আরো কয়েকজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হলে কতজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন? সেটা সঠিক ভাবে বলা যাবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র ক্রয়, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারী যাচাই-বাচাই ও ২০ জানুয়ারী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।

গাজীপুর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লক্ষ ২০ হাজার ৯৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ২৩৫ জন, নারী ভোটার ৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৬৯০ জন ও হিজড়া ভোটার সংখ্যা ১২ জন।