শাহবাগে রাতভর অবস্থান, অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
শাহবাগে রাতভর অবস্থান, অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

নকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে রাতভর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

আজ ২৭ ডিসেম্বর শনিবার শাহবাগে রাতভর অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান ও অবরোধ শুরু করেন তারা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। কনকনে শীত উপেক্ষা করে রাতভর চলা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। বিচার দাবিতে সেখানে উপস্থিত হন নারী আন্দোলনকারীরাও।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের শাহবাগে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে। আজ শাহবাগ অবরোধ করেছি, আগামীকালও অবরোধ চলবে। সারা বাংলাদেশ থেকে মানুষ আসছে। আমাদের আর ঘরে ফেরার সুযোগ নেই।

অবরোধ চলাকালে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কগুলোতে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। রাতভর শাহবাগে প্রতিবাদী গান, স্লোগান ও মিছিলে সরব ছিল আন্দোলনকারীরা। ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নেতা জানান, শনিবারও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে আন্দোলনে অংশ নিয়ে ওসমান হাদির ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি বলেন, সরকারের আচরণে বোঝা যায়, বিচার নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। ওসমান হাদির বিচারের দাবি এখন দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৯ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ‘শহীদী শপথ’ গ্রহণ করেন। শপথে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করা হয়।