বিএনপি থেকে এনসিপিতে গিয়ে কপাল পুড়লেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মঞ্জুর কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
বিএনপি থেকে এনসিপিতে গিয়ে কপাল পুড়লেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মঞ্জুর কাদের

িরাজগঞ্জে বিএনপি থেকে এনসিবিতে গিয়ে কপাল পুড়েছেন এক সাবেক প্রতিমন্ত্রী। এমন ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ -৫ বেলকুচি চৌহালী আসনে। জানাগেছে,সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টি আমলের প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব:) মনজুর কাদের। গত ১০ ডিসেম্বর এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত ১২৫ জনের তালিকায় তার নাম থাকায় ২২ ডিসেম্বর মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সম্প্রতি জামায়াত ইসলামীর সাথে ১০ দলীয় জোটের েকারনে এ আসনটি জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীকে ছেড়ে দিতে হয়েছে এনসিপিকে।

এরআগে ৮ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিএনপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন মনজুর কাদের। অপরদিকে একই জোটের কারনে মনোনয়ন সংগ্রহ করার পরও সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল, সিরাজগঞ্জ- ৪ (উল্লাপাড়া) আসনে দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতিকে নির্বাচন থেকে সরে দাড়াতে হয়েছে। অন্যদিকে জোটের সর্মথনে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে এস, এম সাইফ মোস্তাফিজকে প্রার্থী করেছে এনসিপি।

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ১০ দলীয় সমন্বয়ের কারনে সিরাজগঞ্জের ৪টি আসন থেকে এনসিপির প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও সিরাজগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫ এই ৩টি আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। বাকি সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ১০ দলের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে এনসিপির প্রার্থী এস, এম সাইফ মোস্তাফিজ নির্বাচন করবেন। রবিবার বিকেলে ঢাকায় ১০ দলীয় সমন্বয় কমিটির সভায় এ সিদ্বান্ত হয়েছে। আমরা সেই সিদ্বান্তকে স্বাগত জানিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছি। এনসিপির যুগ্ন সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে শুধু এনসিপির প্রার্থী যুগ্ন সদস্য সচিব সাইফ মোস্তাফিজ জোটের সমর্থনে নির্বাচন করবেন। বাকি আসনগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেজর মনজুর কাদের ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহন করেন। এরপর জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে পাবনা-১ (সাথিয়া-বেড়া) আসন থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর কাদের।

এরপর ১৯৯৬ সালে পাবনা-১ আসন থেকে এবং ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী ও শাহজাদপুর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

পরবর্তিতে এই আসনের সীমানা পরিবর্তন হয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসন করা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পান মনজুর কাদের। তবে সেই সময় মাত্র ২৫২ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের কাছে হেরে যান তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির (রাজশাহী বিভাগীয়) সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একই আসনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আলী আলম মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক গোলাম মওলা খান বাবলুসহ আসনটিতে মোট ৮জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

এ বিষয়ে সদ্য বিএনপি থেকে পদত্যাগ করা এবং এনসিপি থেকে ছিটকে পড়া প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদেরকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমন ঘটনায় বিএনপি এবং চৌহালী বাসীর অনেকেই বলাবলি করছেন মনজুর কাদেরের আম ছালা দুটোই গেল।