তানোরে শোকের আবর্তে বই বিতরণ

তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
তানোরে শোকের আবর্তে বই বিতরণ

ছরের প্রথম দিনে বই উৎসবে মেতে উঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এবারে রাজশাহীর তানোরে শোকার আবর্তে বই বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বই হাতে পেয়েও শিক্ষার্থীদের তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল না। শুধু শিক্ষার্থী না শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও শোক নিয়ে বই বিতরণ করেছেন।

কারন গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হারিয়েছে এক মহীয়সী দেশ নেত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন তিন বারের সাবেক গনতন্ত্র আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী বেগম জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে রাস্ট্রীয় ভাবে তিনদিনের ও দলীয় ভাবে সাত দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। শোকের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীর তানোরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষকরা। গত বুধবার রাস্ট্রীয় ভাবে ছুটি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিক থেকে শুরু করে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পুরো বই বিতরণ করা হয়েছে। অপর দিকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ ও নবম শ্রেণীর পুরো বই বিতরণ করা হয়েছে। ৭ম ও নবম শ্রেণীর অর্ধেক এবং ৮ম শ্রেণীর বই হাতে পায়নি শিক্ষার্থীরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসা সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৮ টি। এর মধ্যে প্রাক প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ৩ হাজার ১৪ জন, বই বিতরণ ৩ হাজার ১৪ টি।

১ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৮৪৯ জন, বিতরণ কৃত বইয়ের সংখ্যা ৮ হাজার ৫৪৭ টি। ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৭৬০ জন, বইয়ের সংখ্যা ৮ হাজার ২৮০ টি। ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৮৮৪ জন, বইয়ের সংখ্যা ৮ হাজার ২৮০ টি। ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৮৮৭ জন, বইয়ের সংখ্যা ১৭ হাজার ৩২২ টি। ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৬৬৮ জন, বিতরণ কৃত বইয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৬০৮ টি। এছাড়াও কেজি স্কুল ১৮ টি ও এনজিও স্কুল ১০ টি সব শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলেয়া ফেরদৌসী। তিনি আরো জানান, এবারে ভিন্ন ভাবে বই বিতরণ করা হয়েছে। কারন রাস্ট্রীয় শোক চলছে। তবে এঅবস্থায় সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে এটাই অনেক বড় ব্যাপার।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে ৬২ টি। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৮ হাজার ৫০০ বই বিতরণ করা হয়েছে। ৭ম শ্রেণীর ৩ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর বইয়ের প্রয়োজন ৩৫ হাজার ২০০ টি, বিতরণ করা হয়েছে ১২ হাজার বই, বাকি রয়েছে ২৩ হাজার ২০০ বই। ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৩ হাজার ১০০ জন, বই প্রয়োজন ৩৪ হাজার ১০০ টি, বই আসেনি। নবম শ্রেণী শিক্ষার্থী ৩০০০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ৪২ হাজার ২০০ টি, বিতরণ হয়েছে ২৫ হাজার ৩৫০ টি।

পৌর সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, শুধু মাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেণীর পুরো বই বিতরণ করা হয়েছে। ৮ম শ্রেণীর বই পাওয়া যায়নি। আর ৭ম ও নবম শ্রেণীর আংশিক বই পাওয়া গেছে। যে সব বই পাওয়া গেছে সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। বাকি বই যে দিন পাওয়া যাবে সেদিনই বিতরণ করা হবে। রাস্ট্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বই বিতরণ করা হয়েছে।

মাদ্রাসা ২২ টি, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১ হাজার ২০০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ১৫ হাজার ৬০০ টি, কোন শিক্ষার্থী বই পাইনি। ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১ হাজার ৫০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ১৩ হাজার ৬৫০ টি, সব বিতরণ করা হয়েছে। ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৯৫০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ১২ হাজার ৩৫০ টি, বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টি। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৯২০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ১৩ হাজার ৮০০ টি, বই আসেনি।

জিওল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আসলাম উদ্দিন জানান, ৬ষ্ঠ ও নবম শ্রেণীর বই পাওয়া যায়নি আর অষ্টম শ্রেণির অর্ধেক পাওয়া গেছে। এবারে বই উৎসব হয়নি। রাস্ট্রীয় শোক চলছে। শোকের আবর্তে বই বিতরণ করা হয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত রাতে শিক্ষা সচিবরা সভা করেছেন, চলতি মাসের ১০ জানুয়ারির মধ্যে সকল বই আসবে। এবারে রাস্ট্রীয় ভাবে শোক চলমান থাকার কারনে শোকের আবর্তেই বই বিতরণ করা হয়েছে।