ভোলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, চরম কষ্টে শীতার্ত মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি ভোলা ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
ভোলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, চরম কষ্টে শীতার্ত মানুষ

োলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শীতপ্রবাহ। এতে জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোলা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত সপ্তাহে মৌসূমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

টানা কয়েকদিন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার পর ৪দিন পর শুক্রবার আকাশে পূর্ণ সূর্যের দেখা মিললেও শনিবার আবার সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে শীতের তীব্রতা কমেনি। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের দরিদ্র ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। শীতের তীব্রতার কারণে অনেক দিনমজুর কাজে যেতে পারছেন না। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে অসহায় মানুষ শীত নিবারণ করতে পারছেন না।

সদর উপজেলার রিকশাচালক মোতাহার হোসেন বলেন, শীতের সঙ্গে বাতাসও বইছে। এমন অবস্থায় রিকশা চালানো খুব কষ্টকর। তবুও পেটের তাগিদে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। কৃষক সাফিজল ইসলাম ও দিনমজুর মফিজ উদ্দিন জানান, ভোরের দিকে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

শীত আরও বাড়লে মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে। অনেকেই শীতের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের ফুটপাত ও বিভিন্ন এলাকায় গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো: মাহবুবুর রহমান জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় ভোলার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। শনিবার ভোলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে অনেক শীতার্ত মানুষ এখনো শীতবস্ত্রের বাইরে রয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মো: আজিম উদ্দিন বলেন, এ বছর প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ হাজার পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

এসব শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আরও বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।