কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না, ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’ যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না, ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’ যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

েনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটি সাময়িকভাবে ‘চালানোর’ ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় নিরাপদ, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা কাউকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। কিন্তু যতদিন না পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে, আমেরিকা ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে।

রোববার ৪ জানুয়ারি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, মাদুরোকে বহনকারী একটি বিমান শনিবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অবতরণ করে। সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এমএসএনবিসি সম্প্রচারিত ফুটেজে নিউ ইয়র্ক সিটির উত্তর-পশ্চিমে স্টুয়ার্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যক্তিকে নামাতে দেখা যায়, যাকে মাদুরো বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন তেল ট্যাংকার আটক ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারী নৌকায় অভিযানের পর মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়েছে।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে আসছে। মাদুরো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার ধ্বংসপ্রাপ্ত তেল অবকাঠামো মেরামতের কাজে এগিয়ে আসবে। তার ভাষায়, এতে ভেনেজুয়েলার জনগণ ধনী, স্বাধীন ও নিরাপদ হবে।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানান, মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক-সন্ত্রাসবাদ ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, তারা খুব শিগগিরই আমেরিকান আদালতে আমেরিকান ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবে। বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মাদুরোর প্রাথমিক শুনানি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

মার্কিন অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা, বিশ্বনেতারা ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা একে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আগ্রাসন বিশ্বকে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়।

মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ দমনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত বেন সল মাদুরোর আটককে অবৈধ অপহরণ বলে নিন্দা করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র জানান, পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং একে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য বিপজ্জনক নজির বলে মন্তব্য করেছেন।

ভেনেজুয়েলার প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা আলোচনা করব না, হাল ছাড়ব না। ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা আলোচনার বিষয় নয়। তিনি জনগণকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ কারাকাসে এক সংবাদ সম্মেলনে মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। আমরা আমাদের দেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে প্রস্তুত।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কীভাবে ভেনেজুয়েলাকে ‘চালাবে’ এবং এই অন্তর্বর্তী সময়কাল কতদিন চলবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। আল জাজিরার ল্যাটিন আমেরিকা সম্পাদক লুসিয়া নিউম্যান জানান, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং দেশজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।