ঝিনাইদহের ফুলচাষীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহের ফুলচাষীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে

িশেষ দিবসের বাজার ধরতে ভালো ফলনের আশায় শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের ফুলচাষীরা। সকাল থেকে রাত অবধি ফুল পরিচর্যা করছেন তারা। ফলন ভালো পেতে জমিতে করছেন ঔষধ স্প্রে দিচ্ছেন সেচ ও সার। ফলন আর দাম ভালো থাকায় এ বছর ফুল বিক্রি করে গতবারের লোকসানের পাল্লা কমানোর আশা তাদের।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি অর্থ-বছরে এখন পর্যন্ত জেলার ৬ উপজেলায় ১’শ ৮০ হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, গাদা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আর বসন্ত-দড়জায় কড়া নাড়ছে। কিছুদিন পরেই আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই ৩ দিবসে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। চাহিদা বেশি থাকায় দামও থাকে চড়া। বেশি দামের আশায় ফলন ভালো করার জন্যই ব্যস্ততা বেড়েছে জেলার সদর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলার ফুলচাষীদের।

সদর উপজেলার গান্না গ্রামের ফুলচাষী বাধন সরকার বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারিতে গাদা ফুলের দাম বেশি হয়। এইজন্য ফুল গাছে টানা দিচ্ছি। যাতে গাছটা শক্ত থাকে। ভেঙ্গে না যায়। ভগবান মুখ তুলে তাকালে এবার ভালো দাম পাবো। একই এলাকার ফুলচাষী শহিদ মৃধা বলেন, গতবারতো আমরা ফুলে লোকসান খেয়েছি। এবার দাম ভালো যাচ্ছে। এইজন্য ফুলে ঔষধ স্প্রে করছি। যাতে ফুল ভালো থাকে।

কোটচাঁদপুর উপজেলার ইকরা গ্রামের ফুলচাষী তাহের আলী বলেন, কয়দিন আগেও এক ঝুপা গাদা ফুলের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা ছিল। গত ২ দিন হলো দাম ভালো যাচ্ছে। এখন প্রতি ঝুপা ফুল ৮০ থেকে ১’শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এভাবে দাম থাকলে আমরা গতবারের লোকসান কভার করতে পারবো।

কালীগঞ্জ উপজেলার বেলেডাঙ্গা গ্রামের ফুলচাষী রশিদ মিয়া বলেন, ভালোবাসা দিবস ও বসন্তবরণ উপলক্ষে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ফুলের দাম ভালো পাওয়া যায়। তাই আমরা কয়েকদিন আগে থেকে এক ধরনের ক্যাপ পড়িয়ে দিয়েছি। ১৩ ফেব্রুয়ারি ফুলগুলো বিক্রি করবো।

ভালো দামের আশা করছি আমরা। একই এলাকার ফুলচাষী আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা এই তিন দিবসের জন্যই মূলত অপেক্ষা করি। বছরের অন্য সময় যা বিক্রি হয় তা খরচ ওটে মাত্র। এখন যে বেশি দাম পাই সেটায় লাভ থাকে। কিন্তু এই সময় প্লাস্টিক ফুল আমদানি করলে আমরা দাম ভালো পায়না। তাই দেশের বাইরে থেকে প্লাস্টিক ফুল যেন সরকার আমদানি না করে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গতবছর এ এলাকার ফুলচাষীরা চরম লোকসানের সম্মুখিন হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুল ভালো উৎপাদন হয়েছে। এছাড়াও ফলন ভালো পেতে কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ প্রযুক্তিগত নানা প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে।