বন্ধ হওয়ার পথে ভোলার আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার ॥ বিপাকে খামারিরা

বিশেষ প্রতিনিধি ভোলা ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
বন্ধ হওয়ার পথে ভোলার আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার ॥ বিপাকে খামারিরা

োকবল সংকট, জড়াজীর্ণ ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় ভোলা আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি প্রায় বন্ধ হবার পথে। সংস্কারের অভঅবে বিকল কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। ফলে খামারি ও উদ্যোক্তারা নানান সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা সদর উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালের বিপরিতে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সর্বপ্রথম ভোলায় এই আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন করে সরকার। শুরুতে এখান থেকে উন্নত জাতের হাঁসের বাচ্চা ও ডিম উৎপাদন ও সরবরাহ করা হতো। স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে এই খামার থেকে ডিম ও হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করতেন। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে থেমে গেছে।

খামারটিতে আধুনিক হ্যাচারি, লেয়ার শেড, গ্রোয়ার শেড, ব্রুডা শেড, ডরমিটরি, অফিস ভবন, গুদামঘর ও পাম্প হাউসসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। লেয়ার, গ্রোয়ার ও ব্রুডার শেড মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার হাঁস পালনের ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সব শেডে মিলিয়ে রয়েছে মাত্র ৫৫০টি হাঁস। দীর্ঘদিন ধরে হ্যাচিং মেশিন নষ্ট থাকায় কয়েক বছর ধরে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে খামার থেকে প্রতি পিস হাঁসের ডিম ৯ টাকা এবং হাঁসের বাচ্চা ২০ টাকায় বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে।

সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার ডিম বিক্রি করা হয়। ২৪ মাস বয়স হলে একটি হাঁস ২০০ টাকায় বিক্রি করার বিধান থাকলেও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় খামারিরা।

স্থানীয় খামারি রিপন মিয়া বলেন, ভোলার খামার থেকে হাঁসের বাচ্চা নিতে পারলে পরিবহন খরচ কম লাগত। এখন খুলনা থেকে হাঁস আনতে হয়, এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ কম হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খামারটি চালু থাকলে বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হতো।

অপর খামারি মানিক মাঝি বলেন, শীতকালে বাইরের জেলা থেকে প্রচুর হাঁস ভোলায় আসে। শুধু হাঁসই আসে না, হাঁসের সঙ্গে নানা রোগও আসে। সরকারি হাঁস প্রজনন খামার চালু থাকলে রোগ ঝুঁকি কমতো এবং আমাদের মতো প্রান্তিক খামারিরা উপকৃত হতাম।

জানা যায়, বর্তমানে এখানে মাত্র ১ জন ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক কর্মরত রয়েছেন। পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার, হিসাবরক্ষক, পোল্ট্রি টেকনিশিয়ান, অফিস সহকারী, ইলেকট্রিশিয়ান, নিরাপত্তাকর্মী ও ঝাড়–দারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। ফলে খামারের পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কোনোরকমে পরিচালিত হচ্ছে।

খামারে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত মো: মেহেদি হাসান বলেন, জনবল কম থাকায় অতি প্রয়োজনেও আমরা ছুটি পাই না। ৩ জনের কাজ একজনকে করতে হয়। একইভাবে আরেক কর্মী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমাদের সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তারপরও সারাদিন আতঙ্কে থাকতে হয়-এই বুঝি ভাঙা সেট থেকে হাঁস চলে গেল, কিংবা কোনো শেড ভেঙে পড়ল।

এ বিষয়ে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো: জাহিদ হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সংস্কার করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই খামারটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব।

দক্ষিণাঞ্চলে হাঁস পালন ও ডিম উৎপাদনে ভোলার বিশেষ সম্ভাবনা থাকলেও সরকারি এই খামারের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা হতাশ করছে স্থানীয় খামারি ও সংশ্লিষ্টদের। দ্রুত লোকবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সংস্কার এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি পুনরায় সচল হবে এমন প্রত্যাশাই এখন ভোলাবাসীর।