খেলার মাঠের অভাব

ধান ক্ষেতে পিচ তৈরী করে ক্রিকেট খেলছেন শিশু কিশোররা

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
ধান ক্ষেতে পিচ তৈরী করে ক্রিকেট খেলছেন শিশু কিশোররা

হর নয় গ্রামে এখন খেলার মাঠের বড় অভাব। তাই গ্রামের যুবকরা অপেক্ষায় থাকে কখন মাঠের ধান কাটা হবে। কারন ধান কাটা শেষ হলেই সেখানে খেলার সুযোগ পাবে তাঁরা। গতকাল বৃহস্পতিবার কামারপুকুর ইউনিয়নের এক পল্লীতে দেখা যায় ধান ক্ষেত পরিস্কার করে সেখানে ক্রিকেট খেলায় মগ্ন রয়েছে শিশু কিশোররা।

উপজেলার ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, পল্লী এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ছাড়া খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। যার কারনে পল্লী এলাকার শিশু কিশোররা আমন ধান কাটার পর ওই জমি পরিস্কার করে খেলা উপযোগী করে সেখানে ক্রিকেট খেলছে তারা।

গ্রামের প্রায় উঁচু জমিতে ইটভাটা, বসতবাড়ি ও মিল ফ্যাক্টরি রয়েছে। অপরিকল্পিত ভাবে গ্রামের জমিতে ওইসব নির্মান হওয়ায় খেলার মাঠ হারিয়ে যাচ্ছে সৈয়দপুরের পল্লী এলাকা থেকে। এরফলে খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না শিশু-কিশোররা। একারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে পর্যাপ্ত বিকাশ ঘটছে না তাদের।

ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায়, উন্মুক্ত প্রান্তরে অবাধে বিচরণের সুযোগ না থাকায় তারা সোনালি শৈশবেই জড়িয়ে পড়ছে অপসাংস্কৃতিক ও অন্যায কর্মকাণ্ডের সাথে। অনেকে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। তাই সচেতন মহল থেকে দাবি উঠেছে উপজেলায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও উদ্যান গড়ে তোলার।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে খেলাধুলা করতে শিশু-কিশোরদের অপেক্ষা করতে হয় ফসল কাটা পর্যন্ত। কৃষকরা ফসল ঘরে নেওয়ার ১০-১৫ দিন পর ওই জমি খেলাধুলার উপযোগী করে তোলে শিশু-কিশোররা। শুধু মাত্র মাঠ না থাকায় খেলার সুবিধা বঞ্চিত শিশু-কিশোররা ঝুঁকে পড়ছে মোবাইল গেমস, অনলাইন জুয়া ও মাদকদ্রব্যে।

উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই গ্রামে ধানের জমিতে ক্রিকেট খেলছিল ১০ জন শিশু-কিশোর। তার মধ্যে শিশু রাকিব, মামুন, মোরসালিন, সোহেল, রাব্বিসহ আরও কয়েকজন শিশু জানায়, ধানকাটার পর দুইদিন ধরে ক্রিকেট খেলার পিচ বানিয়েছি। খেলার মাঠ না থাকায় আমরা খেলতে পারি না তাই ধান কাটার অপেক্ষায় থাকি।

সৈয়দপুরের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ওয়াসিম বারি জয় বলেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশসহ রোগজীবানু থেকে বাঁচতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ ছাড়া স্কুলগামী শিশুদের জন্য নিজেদের প্রতিষ্ঠানেই খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা এবং তাদের খেলাধুলায় অনুপ্রাণিত করা শিক্ষকদের বলিষ্ঠ থাকা আবশ্যক।

সৈয়দপুর উপজেলায় খেলার মাঠের সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার মোক্তার আনছারি বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলার প্রতি যথেষ্ট নজরদারি জোড়দার করেছেন। শহরের যুবক যুবতীরা খেলাধুলার মাঠ পেলেও গ্রামগঞ্জে খেলার মাঠ তেমন একটা নেই। গ্রামে অনেক প্রতিভামান খেলোয়াড় রয়েছে কিন্তু মাঠের অভাবে তারা নিরবেই ঝরে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মারুফা বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের গর্ব। তার বাড়ি সৈয়দপুর ঢেলাপীর হাট এর পশ্চিম পার্শে। মাঠের অভাবে সে রেললাইনের পার্শ্বে প্রাক্টিস করতো। তাঁর মতো অনেকেই আছে,যারা ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। কিন্তু মাঠ না থাকার কারনে তারা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারছে না। সরকারের উচিত পল্লী এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নেই একটি করে খেলার মাঠ তৈরি করা। খেলার মাঠ তৈরি হলে মারুফার মতে অনেকেই জাতীয় দলে খেলে দেশের সুনাম বয়ে আনবে।