পুড়ছে কাঠ উড়ছে ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়া হুমকিতে পরিবেশ ও ফসলাদি বেকায়দায় শিক্ষার্থীরা

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
পুড়ছে কাঠ উড়ছে ইটভাটার বিষাক্ত ধোয়া হুমকিতে পরিবেশ ও ফসলাদি বেকায়দায় শিক্ষার্থীরা

াজশাহী তানোরে কেআরবি নামক ইট ভাটায় পুড়ছে কাঠ উড়ছে বিষাক্ত ধোয়া, হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষি ফসলাদি, বেকায়দায় স্কুল শিক্ষার্থী, নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমির উপরি ভাগের টপসয়েল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে । উপজেলার বাঁধাইড় ইউপির ঝিনাখৈর মাঠে তিন ফসলী কৃষি জমিতে ইট ভাটা তৈরি করে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতার দাপটে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে দিন রাত সমান তালে চলছে ইউ ভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন কে ম্যানেজ করে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন ইট ভাটা বলে কর্তৃপক্ষ বিরুদ্ধে অভিযোগ কৃষক দের। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ইট ভাটা গুড়িয়ে দেয়া জেল জরিমানা করা হলেও রহস্য জনক কারনে কেআরবি ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করেনা পরিবেশ অধিদপ্তর বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও ওই এলাকার তিন ফসলী কৃষি জমির টপসয়েল কাটা হলেও নির্বিকার প্রশাসন। এতে করে একদিকে যেমন কমছে কৃষি জমির উর্বরতা অপর দিকে ফসলাদিসহ হুমকিতে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে ইটভাটা বন্ধের দাবি তুলেছেন স্থানীয় কৃষক সহ পরিবেশ বীদরা।

জানা গেছে, উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়ন ইউপির ঝিনাখৈর কৃষি মাঠে বিগত প্রায় ১২ বছর ধরে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। ভাটার চারদিকে কৃষি ফসলী জমি রয়েছে। প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা তিন ফসলী জমি নাম মাত্র টাকায় লীজ নিয়ে ভাটা তৈরি করা হয়েছে। ভাটায় আশপাশের এলাকার কৃষি জমির টপসয়েল কেটে ইট তৈরি করা হয়। কয়লার পরিবর্তে কাঠ পুড়ানো হয়। ভাটায় কৃষি জমির টপসয়েল খাবা করে রাখা আছে। টনের টন কাঠ পুড়ছে প্রতিদিন। ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় কৃষি ফসল হয়না বললেই চলে। নাম মাত্র কৃষি ফসল উৎপাদন করতে পারেন ওই এলাকার কৃষকরা। ভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়ার কারনে কৃষকরা ভয়ে কিছু বলতে পারেনা। এক প্রকার বাধ্য হয়ে জমি লীজ দিয়েছেন কৃষকরা।

এমনকি জমির টপসয়েল কাটতে না দিলে রাতের আধারে লাঠিসোটা নিয়ে মাটি কাটে ভাটার লোকজন। এখানেই শেষ না সাঁওতাল পল্লীর ১২/১৪ বছরের শিশুরা ভাটায় সল্প মূল্যের মজুরি তে কাজ করিয়ে নেয় ভাটা কর্তৃপক্ষ। যার কারনে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন শিশুরা। স্কুলে না গিয়ে ভাটায় কাজ করেন ওই এলাকার বেশির ভাগ শিশু।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাটার পশ্চিমে গ্রাম, কৃষি জমি, পূর্ব দিকে হাঁপানিয়া যাওয়ার রাস্তা। ভাটার উত্তরে কৃষি জমি, দক্ষিণেও রয়েছে কৃষি জমি। জমি গুলোতে সরিষা ও গমের আবাদ দেখা যায়। ভাটা সংলগ্ন দক্ষিণে রয়েছে ঝিনাখৈর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এর মাঝেই রয়েছে ভাটার চিমনি। চিমনি দিয়ে দিন রাত বিষাক্ত ধোয়া বের হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভাটার কারনে আমরা চাষাবাদ করতে পারিনা। ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় শুধু ফসল না গাছ পালারও ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। কিন্তু কোন উপায় নাই, ভাটার মালিকরা প্রভাবশালী। একারনে তাদের ভয়ে কেউ কোন কিছু বলতে পারেনা। ভাটা বন্ধ না হলে মাঠের পুরো জমি দিতে হবে ভাটা মালিকদের। কারন চাষাবাদ করে কাংখিত ফলন পাওয়া যায়না। ধীরে ধীরে চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়াও এলাকার শিশুরা স্কুলে যেতে চাই না। তারা প্রতিদিন ভাটায় কাজ করে। সকাল আটটা থেকো দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এবং বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত মাত্র ৫০ টা মজুরি তে শিশুরা কাজ করে থাকে। এলাকার কৃষি জমির টপসয়েল কেটে উজাড় করা হচ্ছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ইটভাটা গুড়িয়ে দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু রহস্য জনক কারনে ঝিনাখৈর কেআরবি ভাটায় অভিযান পরিচালনা হয় না।

এত অনিয়ম হয়ে থাকলেও কোন অভিযান পরিচালনা করছেনা পরিবেশ অধিদপ্তর বা প্রশাসন। সব চেয়ে অবাক করার বিষয় শিশুরা শ্রম দেয়ার কারনে স্কুল গামী হতে পারছেনা। যার কারনে অভিভাবকরা পড়েছেন বেকায়দায়। অকালে ঝরে পড়ছে শিশুরা।

কেআরবি ভাটার ম্যানেজার জুলহাস কে ফোন দেয়া হলে রিসিভ করেননি।  ভাটার দায়িত্বে থাকা হাজী কালাম জানান, এই ভাটা রাজশাহী সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বছরে কাস্টমস কে পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হয়। যেখানে যা প্রয়োজন সেটা দিয়ে ভাটা চালানো হচ্ছে।

শিশু শ্রম, কাঠ পুড়ানো এবং কৃষি জমির টপসয়েল কাটা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, সমিতির নির্দেশনা বা তারা যেভাবে ভাটা চালায় সেভাবে এখানেও চলছে। আপনি সমিতির কি দায়িত্বে আছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, মালিক রফিকুল সদস্য হিসেবে আছেন, আর আমি দেখভাল করে থাকি। মালিকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন সাক্ষাতে কথা হবে, আমি এখন নামাজে যাব।

সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) শিব শংকর বসাক জানান, কৃষি জমির টপসয়েল কাটার কোন সুযোগ নেই। অতি দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খানকে ভাটার বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি লোকেশান জেনে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছনিমা খাতুনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে ভাটার বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি জানান, দ্রুত ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।