সৈয়দপুরে দই ও মিষ্টির ওজনে প্রতারনা

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে দই ও মিষ্টির ওজনে প্রতারনা

ৈয়দপুরে দই ও মিষ্টির ওজনে প্রতারনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাটির বাটিতে ৫-৭ গ্রাম দই থাকলেও সেটি কেজি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। একারনে দইয়ের দামে মাটির বাটিও ক্রয় করে প্রতারনার শিকার হচ্ছেন ক্রেতা সাধারন। উপজেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিদপ্তর অন্যান্য প্রতারক ব্যবসায়িদের জরিমানা করলেও দই প্রতারকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হাই নিচ্ছেন না।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় মাটির বাটি সহ এক কেজি দই বিক্রি করা হচ্ছে ৩০০ টাকা দরে। ক্রেতা সাধারণ ওই দই সঠিক দামে ক্রয় করলেও এক কেজি দইয়ের বিপরীতে পাচ্ছেন ৬০০ গ্রাম দই। অথচ দোকানীরা দইয়ের দামে মাটির বাটিরও দাম একই হাকিয়ে নিচ্ছেন।

মিষ্টার নামের এক ক্রেতা জানান,আমি শহরের নাটোর দই ঘর থেকে প্রায় সময় দই ও মিষ্টি কিনে থাকি। আজ কৌতূহল হলো দই রাখা মাটির বাটির ওজন সম্পর্কে। দই কিনে মাটির বাটিটি ওজন করে দেখি, সেটির ওজন ৪০০ গ্রাম। পরে দোকানীকে বললাম,মাটির বাটি সহ ১কেজি দইয়ের মুল্য নিয়ে বিক্রি করাটা প্রতারনা। উত্তরে দোকানী বলেন, এভাবে সবাই বিক্রি করে। মন চাইলে নিন,তা নাহলে যেতে পারেন। একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী দই ও মিষ্টির দোকানেও। সেখানে তার গোডাউনে দই ও মিষ্টি তৈরি করা হলেও বিক্রি করা হচ্ছে, বগুড়ার দই ও মিষ্টি বলে।

এছাড়া যে সব প্যাকেটে মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছে, সেই প্যাকেটের ওজন,কমপক্ষে ২০০ গ্রাম। এক কেজি মিষ্টি কিনলে পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত। অথচ দোকানীরা ১ কেজি মিষ্টি বিক্রি করছেন ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। ক্রেতা সাধারন দইয়ের দামে মাটির বাটি ও মিষ্টির দামে প্যাকেট ক্রয় করে প্রতারনার শিকার হলেও আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন দোকানীরা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর দই ঘরের মালিক৷ প্রফুল্ল চন্দ্র রায় জানান,আমি সহ আমরা এভাবেই বিক্রি করি। যার কেনার ইচ্ছে হবে কিনবে, না কিনলে জোর নেই। ওজনে কম দিয়ে দই ও মিষ্টি বিক্রি করছেন, ভয় হয় না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভয়ের কি আছে, যারা অভিযানে আসেন, তারও এবিষয়ে জানেন।

জানতে চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আলতাফ হোসেন বলেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অনেকে আমাদের তোয়াক্কাই করেন না।বর্তমানে সবাই নিজেকে নেতা ভাবছেন, অভিযানে গেলে এক প্রকার ভয়ই লাগে। ওজনে কম দেয়া অবৈধ ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে করার কিছুই করা সম্ভব হয় না বলে জানান তিনি।