শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করেই সংসার চলে তাদের

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করেই সংসার চলে তাদের

ীতের আভাস এলেই সৈয়দপুরে পিঠার উৎসব শুরু হয়ে যায়। শীতের সকাল ও বিকেলে হরেক রকম পিঠা-পুলির বিক্রি ও খাওয়া দাওয়া চলে সৈয়দপুর শহর সহ উপজেলার গ্রামগন্জে। অলিগলিতেও গড়ে ওঠে হরেকরকম পিঠার দোকান। এই পিঠা কারও বাড়িতে খাওয়ার উৎসব আবার কারো হয জীবিকার উৎস।

সৈয়দপুর শহরের ক্যান্ট বাজারে এমনই পিঠার দোকান দিয়েছেন মরিয়ম, লাকি ও মর্জিনা বেগম। বিকেল ৪ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত ভাপা, চিতই ও ডিম পিঠা বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চলে তাদের। প্রতিদিন ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে তাঁদের পিঠার দোকানে। কেউ বসে খাচ্ছেন, আবার কেউবা কাগজের ঠোঙায় মুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।

পিঠা বিক্রেতা মরিয়ম বেগম বলেন, তার স্বামী মামুনুর রশীদ পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রি। এক ছেলে এক মেয়ে মিলে ৪ জনের সংসার তাঁদের। প্রতিদিন বিকেল ৪ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়। এতে প্রতিদিন লাভ হয় প্রায় ৬০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে ছেলেকে শহরের ইসলামিয়া স্কুলে নবম শ্রেণিতে ও ছোট মেয়েকে বাংগালী পুর নীজ পাড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়াচ্ছেন তিনি। বাকি টাকা দিয়ে সংসার বেশ ভালোই চলছে বলে জানান তিনি।

একই কথা জানালেন মর্জিনা বেগম। তিনি বলেন, স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ। ৫ সদস্যের সংসার তাঁর। গরমের পুড়ি পিয়াজু বিক্রি করে কষ্টে সংসার চললেও শীত মৌসুমে ক্যান্টবাজার এলাকায় পিঠার বিক্রি খুব ভালো হয়। বিকেল ৪ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়।

এতে লাভ থাকে ৬/৭ শত টাকা। সন্তানদের পড়াশুনার খরচ ও সংসার চালাতে কোন সমস্যা হয় না বলে জানান।

শীতে গ্রামেও পাওয়া যায় বিভিন্ন পদের পিঠা। বাজার ও রাস্তার পাশে পিঠা বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চলে অনেকের। এছাড়া শীত এলেই সৈয়দপুরের বিভিন্ন অলি-গলিতেও শীত মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বসছেন পিঠা বিক্রি করতে। সারা শীত জুড়েই চলে তাঁদের ওই পিঠার ব্যবসা।

একেক ধরনের পিঠার দাম একেক রকমের। চিতই পিঠা বিক্রি হয় ১০ টাকা দামে। সাথে দেয়া হয়, শুঁটকি, মরিচ, ধনেপাতা ও সরিষার ভর্তা। চিতই পিঠার ওপর ডিম ভেংগে পিঠা ৩০ ও ভাপা পিঠা ১০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। চালের দাম বেশি হওয়ায় এবারে পিঠা খাদকদের পিঠা খাওয়ায় তৃপ্তি পাওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন অনেক পিঠা বিক্রেতারা।