উলিপুরে ১৩ ফিট প্রশস্তের সড়ক এখন জমির আইল

কুড়িগ্রাম ব্যুরো ঃ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
উলিপুরে ১৩ ফিট প্রশস্তের সড়ক এখন জমির আইল

ুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৩ ফিট প্রশস্তের গ্রামীণ রেকর্ডি সড়ক ভূমি খেঁকোদের দাপটে মাত্র ২ ফিটে পরিণত হয়েছে। ফলে জমির ফসল ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি কৃষকদের গুনতে হচ্ছে মন প্রতি বাড়তি ৪০ থেকে ৭০ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড হোকডাঙ্গায় অবস্থিত ভারত পাড়া ও দালালী পাড়া নামের গ্রাম। কৃষির উপর নির্ভর এখানে বসবাস করে প্রায় ২ হাজার পরিবার। হোকডাঙ্গা, সন্তোষ অভিরাম, খারিজা ও দক্ষিণ হোকডাঙ্গা এলাকাগুলোর হাজার হাজার একর ফসলি জমি ইতোপূর্বে তিস্তার বেপরওয়া ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যায়।

এসব জমির ফসলের উপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করে হোকডাঙ্গার কৃষকরা। কালের বিবর্তনে তিস্তার চরাঞ্চলের এসব জমিতে উৎপাদন হচ্ছে, ধান, পাট, ভূট্টাসহ নানা জাতের মৌসুমী ফসল। কিন্তু এসব ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের পোহাতে হয় নানান বিরম্বনা। বিশেষকরে ফসল পরিবহনের সড়কটি আজ প্রায় বিলীন হওয়ার পথে।

সরকারি রেকর্ডভূক্ত ১৩ ফিট প্রশস্তের প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কটি বিগত পতিত সরকারের আমলে স্থানীয় প্রাক্তন ইউপি সদস্যের দাপট দেখিয়ে তার আত্নীয় স্বজনরা সড়কের দুইধার কেটে নিয়ে নিজেদের জমিতে পরিনত করে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ফলে ১৩ ফিট প্রশস্তের এ রাস্তাটি এখন স্থানীয় ভাষায় জমির আইলে পরিনত হয়েছে।

গ্রামীণ এ সড়কে কোন যানবাহন কিংবা চরাঞ্চলের বাহন হিসেবে খ্যাত ঘোড়ার গাড়ীও চলাচল করতে না পারায় ঐসব চরের জমির ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের পোহাতে হয় নানান বিরম্বনা। ফসলগুলো ঘরে তুলতে সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়তি টাকা গুনতে হয় মন প্রতি ৪০ থেকে ৭০ টাকা।

ওই এলাকার ফজলুল হক, আনোয়ারুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, শাহ আলম, নূরনবী, মমিন বেপারী, সাহেব আলীসহ এলাকাবাসীরা জানান, আমিনুদ্দিনের বাড়ি থেকে দালালপাড়া মসজিদ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তাটির দুই ধারের জমির মালিকরা রাস্তা কেটে নিয়ে আবাদি জমিতে পরিণত করেছে। তিন/চারটি চরের প্রায় হাজার একর জমির ফসল এই রাস্তা দিয়ে বহন করতে হয়।

এ রাস্তা কেটে নেয়া জমির মালিক মনসুর ব্যাপারী ও চাঁদ মিয়া জনগনের স্বার্থে রাস্তার জায়গা ফেরত দিয়ে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। ৮ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ আনিসুর রহমান জানান, রাস্তার এ করুণ অবস্থা তিনি কিছুদিন আগে জেনেছেন, এটি একটি রেকর্ডি রাস্তা। সড়কটি নির্মানে এখন পর্যাপ্ত বরাদ্দের প্রয়োজন।

বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তাটি পূণ:নির্মান হলে প্রায় ২ হাজার পরিবারের যাতায়াতসহ ফসল পরিবহনে ঐ এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে। দখলদাররা রাস্তার জায়গা দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তিনি। হোকডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ইদ্রিস মাওলানার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার সাথে দক্ষিণ দিকে দালালপাড়া মসজিদের সামনে দিয়ে এ রাস্তার অবস্থান।

এ রাস্তার পশ্চিম দিকে প্রায় ২ শত মিটার দুরে অপর একটি সড়কেও দখলদাররা নিজেদের দখলে নিয়ে রিক্রা কিংবা ভ্যান চলাচল ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। প্রাক্তন মেম্বার রুহুল কুদ্দুস এর ভগ্নিপতি হাজিবুদ্দিন গংরা রাস্তার দুই দিকে তাদের সমস্ত জমি হওয়ায় গাড়ী ঘোড়া না চললেও মানুষ চলাচলের এ রাস্তাটিও কেটে জমিতে পরিণত করছে। এ ঘটনায় রাস্তার দখলদারদের সাক্ষাত নেয়া সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসী সরকারি এ সড়ক দুইটি পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান জানান, সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদের, ইউনিয়ন পরিষদে ওই রাস্তা মেরামত করার মত কোন বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পেলে রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।