অবশেষে তালন্দ কলেজের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত! আশায় গুড়েবালি

তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
অবশেষে তালন্দ কলেজের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত! আশায় গুড়েবালি

াজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ঐতিহ্য বাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। গত ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার তালন্দ কলেজের নিয়োগ বোর্ডের দিন ধার্য ছিল।

কিন্তু নিয়োগ বোর্ড স্থগিত চেয়ে ও স্বজনপ্রীতি মাধ্যমে এবং নিয়োগের আগেই কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে মর্মে জেলা প্রশাসক বরাবর তালন্দ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি মহাপরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেন। এঘটনায় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং একাধিক অন লাইন পোর্টালে খবর প্রকাশিত হয়।

যার কারনে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করতে বাধ্য হন। এছাড়াও নিয়োগ বানিজ্যের টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় কয়েক গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যার কারনে নিয়োগ বন্ধ করে দেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ১৭ জানুয়ারি শনিবার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির ভবানীপুর দাখিল মাদ্রাসার দু জন কর্মচারী নিয়োগের দিন ধার্য ছিল। সেখানেও টাকার অংক না মেলায় স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়। একারনে সে নিয়োগ বোর্ডও স্থগিত হয় বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, তানোর পৌর এলাকার ঐতিহ্য বাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে চলতি মাসের ২ জানুয়ারি রাস্ট্রীয় শোকের দিন গোপনে শহরে নিয়োগ বোর্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় গভর্নিং বডির সদস্য ও সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। কিন্তু স্থানীয় নেতাদের ভাগ বাটোয়ারা না মেলার কারনে ওই দিন স্থগিত করা হয়।

এর পরে গত ১৬ জানুয়ারি পুনরায় নিয়োগ বোর্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু তার আগেই তালন্দ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম চার জন কর্মচারী ও অধ্যক্ষ নিয়োগে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এবং জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে সভাপতির মন মত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। নীতিমালায় অধ্যক্ষ নিয়োগ হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ও কর্মচারী নিয়োগ হবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাবিহা সুলতানা। তিনি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দিতে রাজি না হওয়ার কারনে গভর্নিং বডির সদস্য এবং সভাপতি তাকে সরিয়ে দিয়ে নজরুল ইসলাম কে দায়িত্ব দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর তালন্দ কলেজে গভর্নিং বডির সভাপতি করা নিয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় সভাপতি পদ ঝুলে থাকে। অবশেষে ওই কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিন কবিরাজ রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদে সভাপতি হন। সভাপতি হয়ে প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে এক অধ্যক্ষ ও চার জন কর্মচারী নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেন তিনি। গত বছরে অক্টোবর মাসের ৬ তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন সিনিয়র প্রভাষক সাবিহা সুলতানা।

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সভাপতি ও সিন্ডিকেট চক্র নিয়োগ বোর্ড করতে নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু কোন চাপের কাছে মাথা নত করেন নি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবিহা সুলতানা। একারনে তাঁকে সরিয়ে দেয়া হয়। সভাপতি ও সিন্ডিকেট চক্রের পছন্দের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে দায়িত্ব দেয়া হয় নজরুল ইসলাম কে। তিনি দায়িত্ব নিয়ে সভাপতি ও সিন্ডিকেট চক্রের কথা মত প্রথমে ২ জানুয়ারি পরে ১৬ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ডের দিন ধার্য করেন। কিন্তু নিয়োগ বোর্ড করতে ব্যর্থ হন। সেলিম উদ্দিন কবিরাজ বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সুপারিশে তানোর(চাপড়া) মহিলা কলেজের সভাপতি হয়েছিলেন।

আবার এসময় তাকেই করা হচ্ছে সভাপতি। এনিয়ে স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে শিক্ষক মহলে চরম ক্ষোভও বিরাজ করে। সে স্বৈরাচার সরকারের সময়ে সুবিধা নিবেন আবার এসময়েও সুবিধা পাবেন। কি চমৎকার ব্যাপার। তিনি ছাড়া মনে হয় সভাপতি হওয়ার মত যোগ্যতা কারো ছিল না এমন প্রশ্ন কলেজের শিক্ষক ও সচেতন মহলের।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম জানান, নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছে। কি কারনে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি অবহিত না সভাপতি ও বডির সদস্যরা ভালো বলতে পারবেন। আমার চাকুরী অল্প সময় আছে। সম্মানের সহিত বিদায় নিতে চাই।

গভর্নিং বডির সভাপতি সেলিম উদ্দিন কবিরাজ জানান, নিয়োগের আগেই নাকি কোটি টাকার উপরে লেনদেন হয়েছে বলে সালাম অভিযোগ করেছে। একারনে নিয়োগ বোর্ড আপাতত স্থগিত আছে। তিনি আরো জানান, কলেজের জমির খাজনা প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও বিদ্যুৎ বিল ৪/৫ লাখ টাকা বকেয়া আছে। আগের অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার প্রায় ৪০/৫০ পদে নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। সে কলেজের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। তখন সবাই নিরব ছিল। এখন স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ দেয়া হবে সেটা আর সহ্য হচ্ছে না।

এদিকে কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির ভবানীপুর দাখিল মাদ্রাসায় শনিবারে নিয়োগ বোর্ডের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু স্থানীয় নেতারা নিয়োগের আগেই টাকার চাহিদা বা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। যার কারনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করেন।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মতিউর রহমানের সাথে মোবাইলে নিয়োগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মোবাইলে কোন কথা বলতে পারব না। যা কথা হবে সাক্ষাতে বলে দায় সারেন তিনি।