মামুনুর রশীদ’র ”গিনিপিগ”

বিনোদন ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
মামুনুর রশীদ’র ”গিনিপিগ”

াংলাদেশের থিয়েটারের বিস্তারে এবং দক্ষ থিয়েটার কর্মী তৈরীতে সুদীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কাজ করে চলেছে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন। এই স্কুলের ৬ মাসের পাঠ্যসূচিতে একজন প্রশিক্ষণার্থী থিয়েটারের সকল আনুসাঙ্গিক বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা পায়। এরই মধ্যে এই স্কুলের ৪৮টি ব্যাচ সফলভাবে তাদের কোর্স স¤পন্ন করেছেন। পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে ৪৯তম ব্যাচেরও।

২০ জানুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬.৩০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন-এর ৪৯তম ব্যাচের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান। ৪৯তম ব্যাচ তাদের সমাপনী প্রযোজনা হিসেবে মামুনুর রশীদ রচিত ‘গিনিপিগ’ নাটকটি উপস্থাপন করবে। উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অভিনেত্রী ডলি জহুর এবং অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। নাট্য প্রদর্শনী ছাড়াও ঐ দিন মিলনায়তন এর বাইরে থাকবে উন্মুক্ত পোস্টার প্রদর্শনী।

কাহিনী সংক্ষেপ ঃ মামুনুর রশীদ রচিত ‘গিনিপিগ’ নাটকটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রচিত একটি তীব্র ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ারধর্মী নাটক।

এই নাটকে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্র এবং ধনিক শ্রেণীর হাতে গিনিপিগের মতো ব্যবহৃত হয়। নাটকের গল্পে আমরা আমাদের সমাজের উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ দেখতে পাই। নাটকের প্রধান চরিত্র আহমেদ আলী, একজন উচ্চপদস্থ আমলা। তিনি এমন এক সুবিধাবাদী শ্রেণীর প্রতিনিধি, যারা পাকিস্তান আমলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন। তার স্ত্রী রাজিয়া রবীন্দ্রসংগীত চর্চা আর আভিজাত্য দেখানো নিয়ে ব্যস্ত, আর মেয়ে পপি আধুনিকতার হাওয়ায় গা ভাসানো এক তরুণী।

গল্পের মোড় ঘোরে একটি ‘গিনিপিগ’ বা ইঁদুরজাতীয় প্রাণীকে কেন্দ্র করে। পপির শখের গিনিপিগটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরো বাড়িতে হুলস্থুল পড়ে যায়। আহমেদ আলী মেয়ের আবদার মেটাতে অস্থির হয়ে ওঠেন। অথচ ঠিক সেই সময়েই সমাজে আরেক প্রান্তে কেরামতের ক্ষুধার্ত শিশুটি দুধের অভাবে কাঁদছে।

পপির গিনিপিগের জন্য দামী ওষুধ আসে, কিন্তু কেরামতের সন্তানের জন্য এক ফোঁটা দুধ জোটে না। এই বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে নাট্যকার দেখান, সমাজের উঁচুতলার মানুষের কাছে তাদের পোষা প্রাণীর জীবনের মূল্য গরিব মানুষের সন্তানের জীবনের চেয়েও বেশি।

এই নাটকের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মোহাম্মদ আলী। সে একজন চতুর দালাল বা ধূর্ত শ্রেণীর প্রতিনিধি। মোহাম্মদ আলীর সংলাপেই নাটকের মূল দর্শন পাওয়া যায় এই দেশের সতেরো কোটি মানুষ আসলে গিনিপিগ, যাদের ওপর ধনিক শ্রেণী তাদের ইচ্ছেমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।

অন্যদিকে, ডালবাহাদুর বা ডালু নামের চরিত্রটি নাটকে অনেকটা বিবেকের মতো কাজ করে। সে মাঝে মাঝে দর্শকদের সাথে সরাসরি কথা বলে এবং নাটকের অসঙ্গতিগুলো ধরিয়ে দেয়। রাজনৈতিক নেতারা মঞ্চে এসে বড় বড় বুলি আওড়ায়, শোষণহীন সমাজের কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে মহাজনরা গরিব কৃষকের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেয়।

নাটকটি এগিয়ে যায় ধনিক শ্রেণীর ভ-ামি এবং গরিবের অসহায়ত্বের সমান্তরাল চিত্র নিয়ে। আহমেদ আলী ও তার মতো লোকেরা ‘উন্নয়ন’-এর নামে নিজেদের পকেট ভারী করেন, যা এত দশক পরে এসেও প্রাসঙ্গিক। সংক্ষেপে, ‘গিনিপিগ’ নাটকটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং এটি একটি আয়না যেখানে বাংলাদেশের শ্রেণী বৈষম্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের নিগৃহীত হওয়ার নিরন্তর করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

নির্দেশকের কথা ঃ শ্রদ্ধেয় মামুনুর রশীদ-এর ‘গিনিপিগ’ নাটকটি নির্বাচনের প্রধানতম উদ্দেশ্য নাটকে উল্লেখিত চরিত্র সংখ্যা এবং নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা। প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন সবসময় আশা করে ব্যাচে অংশ নেয়া ছাত্র-ছাত্রীর সর্বাধিক অংশগ্রহণ।

যেহেতু কোর্স সম্পন্নকালে এটাই তাদের শেষ সুযোগ নিজেকে সম্পূর্ণরূপে মেলে ধরার এবং একই সাথে এই বিদ্যালয় থেকে তাদের উপলব্ধ জ্ঞানের প্রতিফলনও আমরা এই মঞ্চায়নের মাধ্যমে দেখতে পাই। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যেহেতু মঞ্চায়ন করতে হয়, তাই কোন বিশেষ ভাবনার দ্বারস্থ না হয়ে বরং পান্ডুলিপিই এক্ষেত্রে নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করেছে। সাথে ছিলো একঝাঁক তরুণ অভিনেতা অভিনেত্রীর নাটকের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রম ও নিষ্ঠা।

পরিশেষে’ ৪৯তম ব্যাচের পক্ষে যারা সার্টিফিকেট গ্রহণ করছেন, আমি তাদের এই অর্জিত-সাফল্য বজায় থাকুক এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

কুশীলব ঃ ডালবাহাদুর ইরিনা লা শাফিনা, অরুণিত ভোর, মারিয়া আক্তার, মৃদুলা, সাদমান নাফিস কাদেরী আহমেদ আলী গ্রেনার পল দীপ রোজারিও, সাহাদত হোসেন পপি ফাতিমা তুজ জোহরা যুথি, আফরোজ মাইশা জাহান, আলভি রাজিয়া, সৈয়দা মাইশা জাহির, রুবেল অর্ণব রায় অংকন, মোহাম্মদ আলী উষাচিং চৌধুরী, রাজা সবুজ খান, জুলেখা রাবেয়া, আরব আলী আশিকুল ইসলাম আশিক, কেরামত রাজিব মৃধা, কেয়ামতের স্ত্রী তাহমিনা মুন্নি, মহাজন অর্জুন রাজ বিশ্বাস, সুরজ মেশকাত হাসান, সুরজের বউ অরুণিত ভোর, নেতা-১ মাহদীর কবীর অর্ণব, নেতা-২ মোঃ হোসেন খান পাভেল, রাজার মামা মোঃ মুরাদ হোসেন খান, শুভাশীষ দাস, পপির মামা মোঃ আকাশ আলী, সাংবাদিক ফাতিমা তুজ জোহরা যুথি, ওয়েটার নাফিস আনফাল সরকার।

নেপথ্যে  রচনা মামুনুর রশীদ, নির্দেশনা সাখাওয়াত হোসেন রেজভী, সহকারী নির্দেশনা সুপ্তি দাস চৈতী, মঞ্চ ও দ্রব্যসামগ্রী পরিকল্পনা স্বাতী ভদ্র, আলোক পরিকল্পনা ও প্রক্ষেপন মোঃ মোখলেছুর রহমান, আলোক প্রক্ষেপন সহকারী তাপস সরকার রুদ্র, সংগীত পরিকল্পনা এবি সিদ্দিকী, সংগীত প্রয়োগ ফুয়াদ বিন ইদ্রিস, ইনু, তাসমিয়া, শুভ্র, প্রয়িম, কোরিওগ্রাফি ডায়না ম্যারেলিন চৌধুরী, পোশাক পরিকল্পনা জেসমিন জাহান ঝুমা, পোশাক দ্রব্যসামগ্রী মুন্নি, পোস্টার শুভ্র দেব রায়, ফটোগ্রাফি নাজমুল হোসেন হিমেল, প্রযোজনা অধিকর্তা ঊষাচিং চৌধুরী, ইরিনা লা শাফিনা, প্রযোজনা ব্যবস্থাপনা মাহফুজ আহাম্মদ, জেসিকা জাসিন্তা চিরান, সার্বিক তত্ত্বাবধান সাহানা রহমান সুমি, সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রাচ্যনাট।