সৈয়দপুরে শহীদ মিনারে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে শহীদ মিনারে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়

াষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্বরনে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। কিন্তু সেই শহীদ মিনার সৈয়দপুরে অবহেলা আর অযত্নে পড়ে আছে। গতকাল রবিবার ১৮ জানুয়ারি এমন দৃশ্য চোখে পড়ে শহরের হাতিখানা এলাকায় রাজ্জাকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত শহীদ মিনারের। মিনারের পাশে রয়েছে পৌরসভার ডাস্টবিন। ওই ডাস্টবিনে স্থানীয়রা ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এতে শহীদ মিনার চত্বর আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, শহীদ মিনারটির পাশের ডাস্টবিনে উপচে পড়ছে ময়লা। আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে পুরো শহীদ মিনার চত্বর। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি শহীদ মিনার নাকি ময়লার ভাগার। ময়লার গন্ধে পার্শ্ববর্তী রাজ্জাকিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়রা নাক চেপে ধরে চলাচল করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অভিযোগ বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ চাইলেই শহীদ মিনারোর পার্শে আবর্জনার ভাগাড়টি অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করতে পারত। তারা আরো বলেন, শহীদ মিনার ও ময়লার ভাগাড়ের মাত্র ২০-২৫ গজ দূরেই রয়েছে রাজ্জাকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রতিদিন এই বিদ্যালয়ের শত শত কোমলমতি শিশু শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে যাতায়াত করে। আর সেখানেই ময়লার ভাগাড় থাকায় স্কুল সহ এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। দুর্গন্ধময় পরিবেশে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হয় সেখান দিয়ে। এমন অবস্থায় শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে পেটের পীড়াসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। অন্যদিকে শহীদ মিনার হলো বাঙালি জাতির হৃদয়ের স্পন্দন। আর সেই শহীদ মিনারের পাশে ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা মানে শহীদদের স্মৃতি চিহ্নকে অবমাননা করার শামিল। শহীদ মিনারের সম্মান বজায় রাখতে পৌর কর্তৃপক্ষের নজর রাখার দাবি জানান তারা।

শহীদ মিনারের পাশে ময়লার ভাগাড়ের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে কথা হয় ওই ওয়ার্ডের সাবেক পৌর কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় বিকল্প কোন স্হান না থাকায় ডাস্টবিনটি সরানোও সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে শহীদের সন্তান, বিশিষ্ট সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু বলেন, এমন ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারন এটি শহীদদের অবমাননা করার সামিল। এ বিষয়ে কথা হয় দৈনিক মানবজমিন এর সাংবাদিক এম এ করিম মিষ্টারের সাথে তিনি বলেন, এমন ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। শহীদদের অবমাননা করা হয় এমন কাজ করা কারোরই উচিত নয়। তাই শহীদ মিনারের পাশে ময়লার ভাগাড়টি দ্রুত অপসারন চাইছি।

শহীদ মিনার অবমাননার বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার। তিনি বলেন, শহীদ মিনার অত্যন্ত সম্মানের জায়গা। এটি সুরক্ষার দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সচেতন মানুষের। শহীদ মিনারের যেন কোনো অবমাননা না হয় সেজন্য পৌর কর্তৃপক্ষের বিশেষ তদারকির প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন। একই কথা ব্যাক্ত করেন জাতীয় পার্টির সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্প পতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। তিনি বলেন, যাদের জীবনের বিনিময়ে বাংলা ভাষা স্বীকৃত, তাদের স্বরনে নির্মিত শহীদ মিনারের পাশে আবর্জনার স্তূপ, এটা মেনে নেয়া যায় না। এটি দ্রুত আবর্জনা মুক্ত করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জোড় দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, আমি সদ্য এই উপজেলায় যোগদান করেছি। শহীদ মিনারের পাশে ময়লার ভাগাড়, এটি অবশ্যই সঠিক হয়নি। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।