স্পেনে দুটি হাইস্পিড ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ২১

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
স্পেনে দুটি হাইস্পিড ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ২১

্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া প্রদেশে দুটি হাইস্পিড ট্রেনের সংঘর্ষে ২১ জন নিহত এবং ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘গভীর বেদনার এক রাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মালগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি ট্রেন আদামুজ শহরের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে পাশের ট্র্যাকে চলে যায় এবং বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি ট্রেনের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ ঘটে। এতে দ্বিতীয় ট্রেনটিও লাইনচ্যুত হয় বলে স্পেনের রেল নেটওয়ার্ক অপারেটর ‘আদিফ’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

পুলিশের একজন মুখপাত্র এএফপি-কে জানান, দুর্ঘটনায় ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা আন্তোনিও সানজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্পেনের পরিবহন মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সাংবাদিকদের জানান, আহতদের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, রেললাইনের যে অংশে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা ছিল সোজা এবং সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংস্কার করা। এছাড়া যে ট্রেনটি প্রথম লাইনচ্যুত হয়েছে সেটিও ছিল একদম নতুন, যার ফলে এই দুর্ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

রেল অপারেটর ইরিও জানিয়েছে, তাদের মালগা-মাদ্রিদগামী ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতর আটকা পড়া শত শত যাত্রী উদ্ধারকাজে প্রতিকূলতা তৈরি করছেন।

কর্ডোবার ফায়ার সার্ভিস প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরটিভিই-কে বলেন, ‘বগিগুলো দুমড়েমুচড়ে মানুষের শরীরের সাথে আটকে গেছে। এমনকি একজনকে জীবিত উদ্ধারের জন্য আমাদের এক মৃত ব্যক্তির দেহ সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত কঠিন ও জটিল কাজ।

‘একটি হরর মুভি’

হুয়েলভাগামী দ্বিতীয় ট্রেনের যাত্রী মন্তসে জানান, একটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে ট্রেনটি থেমে যায় এবং সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। তিনি ট্রেনের শেষ বগিতে ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন, মালপত্র যাত্রীদের ওপর পড়তে থাকে এবং তার পেছনে থাকা এক অ্যাটেনডেন্টের মাথায় আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘এ সময় শিশুরা কাঁদছিল। ভাগ্যক্রমে আমি শেষ বগিতে ছিলাম। মনে হচ্ছে আমি দ্বিতীয়বার জীবন পেয়েছি।’

প্রথম ট্রেনের যাত্রী লুকাস মেরিয়াকো জানান, ‘ঘটনাটি দেখতে একদম হরর মুভির মতো ছিল। আমরা পেছন থেকে প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করলাম এবং মনে হলো পুরো ট্রেনটি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। কাঁচের আঘাতে অনেকে আহত হয়েছে।

রেল অপারেটর আদিফ ঘোষণা করেছে, মাদ্রিদের সাথে আন্দালুসিয়ার শহর কর্ডোবা, সেভিল, মালগা এবং হুয়েলভার হাইস্পিড ট্রেন চলাচল আজ সোমবার সারাদিন বন্ধ থাকবে। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন স্টেশনে বিশেষ বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাস্থলে ৪০ জন সেনা সদস্য এবং ১৫টি সামরিক যান পাঠিয়েছে।

‘গভীর বেদনার রাত’

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এক্সে লিখেছেন, ‘আদামুজের এই মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে আজ আমাদের দেশের জন্য গভীর বেদনার এক রাত। কোনো শব্দই এই বিশাল শোক লাঘব করতে পারবে না, তবে আমি চাই তারা জানুক, এই কঠিন সময়ে পুরো দেশ তাদের পাশে আছে।

স্পেনের রাজপ্রাসাদ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ এবং রানি লেতিসিয়া অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে এই খবর পর্যবেক্ষণ করছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েনও শোক প্রকাশ করেছেন।

স্পেন ইউরোপের বৃহত্তম হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্কের অধিকারী। দেশটিতে ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি ডেডিকেটেড ট্র্যাক প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করেছে। এর আগে ২০১৩ সালে সান্তিয়াগো ডি কম্পোস্টেলা শহরের কাছে একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হয়েছিল, যা ছিল ১৯৪৪ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় রেল দুর্ঘটনা।