আরও ৩৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
আরও ৩৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ৩৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রবাসে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দেশ পরিবার-পরিজনের জমি, গয়না বিক্রি করে কিংবা ঋণ নিয়ে জনপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা, কেউ কেউ ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ফিরলেন শূন্য হাতে।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, দুপুরে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের পরিবহনসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়।

ফেরত আসা ৩৬ জনের মধ্যে নোয়াখালীর ২১ জন, লক্ষ্মীপুরে দুই জন এবং মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, বরগুনা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নেত্রকোনার একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯৩।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ফেরত আসা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানায়, গতকাল আসা ৩৬ জনের অধিকাংশই প্রথমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। সেখানে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কয়েক দফায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।