কালিয়াকৈরে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি তুলে ধরতেই আইডিয়াল পিঠা উৎসব উদযাপন

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি(গাজীপুর)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি তুলে ধরতেই আইডিয়াল পিঠা উৎসব উদযাপন

তিহ্যকে লালন করে আমার এ দেশ, বাংলার পিঠাপুলি খেতে লাগে বেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি তুলে ধরতেই গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আইডিয়াল পিঠা উৎসব উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার সফিপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে এ আইডিয়াল পিঠা উৎসব উদযাপন করা হয়। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক সাইজুদ্দিন আহম্মেদ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, দৈনিক প্রথম আলো গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বৃন্দ।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত পিঠা উৎসব চলমান ছিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় উৎসবে ব্যাপক মানুষের ঢল নামে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবটি এক আনন্দঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। উৎসবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাজানো ছয়টি স্টলে প্রায় একশত রকমের পিঠা প্রদর্শন করা হয়। উল্লেখযোগ্য পিঠাগুলোর মধ্যে ছিল—পাটিসাপটা, কলি পিঠা, ভাপা পিঠা, ঝাল পিঠা, চিতই পিঠা, পোয়া পিঠা, দুধ চিতই, মালপোয়া, মড়া পিঠা, মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, আন্দশা, কুলশি কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল পিঠা, সুন্দরী পাকান, সরভাজা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, তেলের পিঠা, তেলপোয়া পিঠা, চাঁদ পাকান, ছটি পিঠা, পানতোয়া, জামদানি পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, ঝালপোয়া পিঠা, ঝুরি পিঠা, ছাঁচ পিঠা, চাপড়ি পিঠা, ঝিনুক পিঠা, সূর্যমুখী পিঠা, ফুল পিঠা, বিরানি পিঠা, সেমাই পিঠা, নকশি পিঠা, দুধরাজ, ফুলঝুরি ও রস পিঠাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিভিন্ন ধরনের পিঠার স্বাদ গ্রহণ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকাবাসী এবং দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এব্যাপারে সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, “পিঠা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এক সময় বাঙালির প্রতিটি উৎসব-আনন্দে রকমারি পিঠার উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। কিন্তু নগরায়নের প্রভাবে এই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া পিঠার সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এটি একদিকে যেমন আমাদের সংস্কৃতির সাথে সংযোগ ঘটায়, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদিত উপকরণ ও তাদের শ্রমের প্রতিও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।