নীলফামারী-৪ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
নীলফামারী-৪ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

াঘ মাসের শীত উপেক্ষা করে চলছে নির্বাচনী প্ররাচনা। ২১ জানুয়ারী দুপুরে মার্কা দেয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে প্রচার প্রচারনা। নির্বাচনী প্রচারনা সরব হয়ে উঠেছে নীলফামারী-৪ আসনের রাস্তা ঘাট শহর ও গ্রাম সর্বত্র। খুলি বৈঠকে ব্যস্ত প্রার্থীরা। রাস্তা ঘাটের ফুটপাত, পাড়াগাঁয়ের ঝুপড়ি ঘর বা চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র আলোচনা চলছে, সুষ্ঠ নির্বাচন হলে কোন দল জয়ী হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি কোন প্রার্থীকে ভোট দিলে এ আসনের উন্নয়ন হতে পারে।

এই আসনের নির্বাচক বিশ্লেষকদের মতে, নীলফামারী-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এরা হলেন, জামাত প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম (দাড়ি পাল্লা) মামুনুর রশীদ মামুন (মোটরসাইকেল) রিয়াত আরফান( রানা ফুটবল) রওশন মাহানামা (কাঁঠাল) শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) সাইদুল ইসলাম (কাঁচি) ও জোবাইদুর রহমান মিন্টু( ঘোড়া) মার্কা। এর মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সৈয়দপুর – কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে নীলফামারী-৪ আসন। গিঞ্জি শহর ও অবাংগালী অধ্যষিত সৈয়দপুর সহ কিশোরগঞ্জ মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৬৩ টি।এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ২৬৮ টি ও নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ২৯৬টি।

ভোটারদের মতে,বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব গফুর সরকারের জয়ের সম্ভাবণা যে শতভাগ তা স্পষ্ট। তারা বলেন, নীলফামারী -৪ আসনে বিএনপি মানেই আলহাজ্ব গফুর সরকার। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। ওই সময় সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদুল মোমিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া আওয়ামী নেতা কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই সিদ্দিকুল আলম এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

হেরেছিলেন, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব আদেলুর রহমান আদেল। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থী অংশ না নেয়ায় আওয়ামী সমর্থক ভোটাররাও স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব গফুর সরকারকেই এমপি হিসেবে দেখতে চাইছেন।

সৈয়দপুরের ভোটাররা বলছেন, ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হলো,জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থী শিল্প পতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। তিনি ২০২০ সালে সৈয়দপুর পৌর পরিষদের মেয়র পদে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় ২ ঘন্টার ব্যবধানে ভোট পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ভোট। কিন্তু তার বৃদ্ধ মাকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ভোট দিতে না দেয়ায় নির্বাচন থেকে সরে আসেন তিনি। ২০২৪ এর সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদুল মোমিনকে হারিয়ে তিনি প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাত্র ৬ মাস দ্বায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তিনি সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয় তাহলে নীলফামারী-৪ আসনের জনগন সিদ্দিকুল আলমকেই এমপি হিসেবে বেছে নিবেন। শিল্প পতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম বলেন, জনগণ যদি তাদের মুল্যবান ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেন,তাহলে সরকারের দেয়া বরাদ্দের একটি টাকা ও নিজ স্বার্থে খরচ হবে না। সরকারের দেয়া অর্থে নীলফামারী-৪ আসনকে ঢেলে সাজানো হবে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব গফুর সরকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ নেতা কর্মীরা বিগত ১৭টা বছর আন্দোলন করেছেন। যার ফল স্বরূপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন।

এ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ। জনগণের ভোটের অধিকার বাস্তবায়নের আন্দোলনে ১৭টা বছর নিজ বাড়িতে থাকতে পারিনি। শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি বারংবার। জনগনের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের কথা ভেবে ভোটাররা যদি আমাকে এমপি নির্বাচিত করেন তাহলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সহযোগিতায় সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারবো ইনশাআল্লাহ।