সৈয়দপুরে জমজমাট কুলের বাজার

সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে জমজমাট কুলের বাজার

ত্তরাঞ্চলের বিশাল কুলের বাজার গড়ে উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। ঝুরি,কার্টন আর টুকরিতে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন জাতে কুল। দূর দূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন কুল। জমজমাট এই বাজারে প্রায় প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলছে কুলের বেচাকেনা। বিশেষ করে বল সুন্দরী, সূর্যমুখী, বাউকুল, আপেলকুল, নারিকেল, কাশ্মীরি কুলে ভরা চারদিক।

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর, খানসামা, চিরিরবন্দর, রংপুরের তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, বগুড়ার সান্তাহার, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে ওইসব কুল। নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও পার্বতীপুরসহ রংপুর বিভাগের অন্যতম ব্যবসার কেন্দ্রস্থল হচ্ছে সৈয়দপুর। আর এ কারণেই ওইসব এলাকার কুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মূল্য পেতে এবং অল্প সময়ে বিক্রির জন্য ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, নছিমন, রিকশা-ভ্যান ও ট্রেনে কুল নিয়ে আসছেন সৈয়দপুরে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলছে কুল কেনা-বেচা। আশপাশের চাষিরা কুল আনছেন ভ্যান ও পিকআপ ভর্তি করে। প্রতিদিন প্রচুর কেনা-বেচা হয় কুল আড়তে। সৈয়দপুর শহরের ১ নম্বর রেলঘুমটি এলাকার পাশেই গড়ে ওঠা এ বাজারে গত বছরের তুলনায় এ বছর ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কুলের প্রকার ভেদে নির্ধারণ করা হচ্ছে দাম। ভালো জাতের প্রতি মণ কুল বিক্রেতারা বিক্রি করছেন দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা দরে। আড়তে পাইকারি সর্বনিম্ন এক হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে কুল পাওয়া যাচ্ছে।

বদরগন্জের মনসুর আলী জানান, ব্যবসার জন্য সৈয়দপুরের বাজার বেশ ভালো, তাই প্রতিদিনই এখানে বাগানের কুল নিয়ে আসি। কুলের আকার হিসেবে প্রতিমণ এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করি। তবে এখানে যার দোকানের সামনে অস্থায়ী বাজার, তারা শতকরা ১০ টাকা করে নিয়ে নেন। ১৪ হাজার টাকার কুল বিক্রি করেছি, যার মধ্যে ১৪০০ টাকা দিতে হয়েছে। তাছাড়া আসা যাওয়ায় পৌরসভা টোল তো আছেই।

এ বিষয়ে হাজি গরিবুল্লাহ ফল ভান্ডারের জনি বলেন, আমরা এখানে সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কয়েকজন লোক রেখেছি। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখেই শতকরা ১০ টাকা করে নিচ্ছি কুল চাষিদের কাছ থেকে।

দুলাল নামের এক আড়তদার জানান, গতবারের তুলনায় চলতি মৌসুমে তিন গুণ বেশি কুল আড়তে এসেছে। কুলের আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি ক্রেতারও কমতি নেই। প্রায় প্রতিদিনই ১০০ মন এরও বেশি কুল বিক্রি হচ্ছে আমার আড়ত থেকে। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সৈয়দপুরে কুলের দাম অনেক কম, তাই দুরের ব্যবসায়িরা সৈয়দপুর থেকেই কুল কিনেন।

সৈয়দপুর শহরের খুচরা বাজারগুলোও অন্যান্য নিয়মিত ফলের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের কুল বড়ই দিয়ে ভরে গেছে। সব দোকানেই নানা জাতের কুলের ব্যাপক সমারোহ। সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা পাড়া-মহল্লাসহ রাস্তায় ফেরি করে বাউ ও আপেল কুল বিক্রি করছেন। এতে ক্রেতারা হাতের নাগালেই মৌসুমি এ ফল পাচ্ছেন।

এবিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভুষন বলেন, কুল চাষিদের প্রতিবছরই কুল চাষে পরামর্শ দেয়া হয়। এর ফলে কুলের ফলন বেশি হওয়ায় কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে অন্যান্য চাষিদেরও।