কালভার্ট না থাকায়, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ রাস্তা নির্মান করেছে গণউন্নয়ন কেন্দ্র

কাজী শাহ আলম, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) থেকে :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
কালভার্ট না থাকায়, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ রাস্তা নির্মান করেছে গণউন্নয়ন কেন্দ্র

িক্ষা প্রতিষ্ঠান,স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই কঠিন। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদীরপাড় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই দুঃখ লাঘবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র রাস্তা নির্মান করেছে কিন্তু নাই কোন সংযোগ ব্রিজ বা কালভার্ট, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।

সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী সুত্রে জানাগছে, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখসুন্দর গ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন চলাচল এবং শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারে নিরাপদ ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই কঠিন। তিস্তা নদীর ভাঙন, বন্যা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই চলে এ এলাকার মানুষের জীবন। দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের জন্য নেই কোন স্থায়ী বা অস্থায়ী উঁচু মাঠ।

নিজ শেখসুন্দর গ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় বহুমুখী উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লোকালয়ের সঙ্গে কয়েকটি গ্রামকে যুক্ত করে ১২০০ ফুট কাঁচা রাস্তা নির্মান করে দুই ধারে বৃক্ষরোপণ এবং ১টি স্কুল মাঠ উঁচুকরণ করেছে যা বন্যা ও জলাবদ্ধতার সময় শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয়স্থল হবে। এই রাস্তার ফলে প্রায় ৫থেকে ৬হাজার মানুষ যাতায়াত করে। প্রকল্পটি জেড জুরিখ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কারিগরি সহায়তায় গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (এটক) কর্তৃক বাস্তবায়িত হয়েছে।

কিন্তু শিক্ষার্থী, রোগী, নারী ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও স্থানীয় বাজারে নিরাপদ ও দ্রুত যোগাযোগের জন্য উক্ত রাস্তায় সংযোগ ব্রিজ বা কালভাট না থাকায় নিত্যদিন ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ। তাই খুবই জরুরী হয়েছে উক্ত নবনির্মিত রাস্তার সংযোগ ব্রিজ বা কালভাট। এসব অবকাঠামো নির্মাণে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ আশা করছেন এলাকাবাসী।

উক্ত এলাকার শিক্ষার্থী মিম জানায়, “আগে রাস্তা না থাকায় আমরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারতাম না। বন্যার সময় যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত, এমনকি বাজারে গিয়ে খাবার কেনার পরিস্থিতিও থাকত না। এখন রাস্তা হওয়ায় আমরা স্কুলে যেতে পারি।

একই এলাকার সফিয়ার বলেন, এই রাস্তাটি আগে অনেক নিচুঁ ও জাগায় জাগায় খাল থাকার কারণে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারতো না। বর্তমানে রাস্তাটি ৫ফুট উঁচু, ১২টপ ও ১৮ফুট প্রস্থ্য করেছে এতে আমাদের একটু সুবিধা হয়েছে। অপর একজন কৃষক বলেন, ফসল ভালো হলেও রাস্তার অভাবে আমরা ন্যায্য দাম পেতাম না। এখন শুকনো মৌসমে কৃষি ফসল বাজারে নিতে পারি। রাস্তাটিতে দুটি ব্রিজ বা কালভার্ট জরুরী হয়ে পড়েছে।

ইউপি সদস্য রোকেয়া খাতুন বলেন, রাস্তাটি হওয়ায় জনসাধারণ চলাচল করতে পারছে কিন্তু দুটি ব্রিজ বা কালভার্ট প্রয়োজন ।

গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রজেক্ট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর সহযোগিতায় এবং জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় হাতীবান্ধা উপজেলায় মোট ৫টি গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ হয়েছে, যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ২০০ ফুট।

তার মধ্যে সানিয়াজান ইউনিয়নে ১২০০ফুট রাস্তা নির্মাণ, দুই ধারে বৃক্ষরোপণ এবং কৃষকদের বিশ্রামের জন্য একটি ‘শীতল ছায়া’ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের স্বস্তির মাঝেও একটি অপূর্ণতা রয়ে গেছে। নবনির্মিত রাস্তাটিতে দুটি ব্রিজ বা কালভার্ট জরুরী হয়ে পড়েছে। আশা করি স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহন করবে। রাস্তা আছে কিন্তু নাই কোন সংযোগ ব্রিজ বা কালভাট, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ।