পীরগঞ্জ লৌহ খনির অনুসন্ধান কার্যক্রম

এটি কোন সাধারন বিষয় নয়, জাতির স্বপ্ন – জ্বালানী সচিব

সরওয়ার জাহান, পীরগঞ্জ প্রতিনিধি (রংপুর)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
এটি কোন সাধারন বিষয় নয়, জাতির স্বপ্ন – জ্বালানী সচিব

ংপুরের পীরগঞ্জে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, দেশের উত্তরাঞ্চল মানুষ উদার, যে কারনে সৃষ্টি কর্তা এই এলাকায় মাটির নিচে খনিজ সম্পদ দিয়েছেন। এখানে যে খনিজ সম্পদ পাওয়া যাবে তা উত্তোলনে সহায়তা করবে সরকার।

তিনি আরও বলেন, এটি কোন সাধারন বিষয় নয়, এটি জাতির স্বপ্ন। তিনি গতকাল শনিবার রংপুরের পীরগঞ্জে আবিস্কারের ৬ দশক পর আবারও নতুন করে লৌহ খনি অনুসন্ধানে কূপ খনন অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোটপাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারী পাথারে লৌহ খনির অনুসন্ধান কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের আয়োজনের এতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল মান্নান, উপ-মহাপরিচালক আলী আকবর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ পপি খাতুন, শানেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান

জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে উপজেলার শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের ভেলামারী পাথারে প্রথম খনির প্রাথমিক সন্ধান পেয়েছিল তৎকালীন পাকিস্থান সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগ। ওই সময়ে খনি চিহ্নিত করতে কূপ খনন করে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে রাখা হয় অনুসন্ধান করা চারটি কূপের মুখ। যা আজও দৃশ্যমান।

১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধের পরপরই তৎকালীন সরকারের খনিজ সম্পদ বিভাগের একদল কর্মকর্তা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যচিত্রানুযায়ী একটি বিমান ও গাড়িবহর নিয়ে প্রায় ছয় বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল মাঠে আসেন। সে সময়ের খনিজ বিজ্ঞানীরা এখানে লোহার খনির উৎস হিসেবে নিশ্চিত হয়ে ভেলামারী পাথারে খনির মুখে কংক্রিটের ঢালাই করে চিহ্ন দিয়ে এলাকার প্রাথমিক জরিপ কাজ সম্পন্ন করে চলে যান।

ভূতাত্ত্বিক খনন কূপ জিডিএইচ-৭৯/২৫ নামে খনি অনুসন্ধান কাজের উদ্বোধন শেষে জিএসবির উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আকবর আলী সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৬৬ সালে এখানে খনন করা হয়েছিল। এটাকে ইডিএস-১৫ বলে, আমরা সেখানে কিছু তথ্য পেয়েছি। স্বাধীনতার পর ২০০০ সালে জিডিএইচ-৫৪ নামে একটা কূপ খনন করে ভূগর্ভের অবস্থা জানার জন্য সার্ভে করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালেও মিঠিপুর ইউপি’র কাশিমপুর গ্রামে ৭৮/২৩ নামে অপর একটি কূপ খনন করা হয়। সেখানেও আমরা কিছু খনিজ সম্পদের উপাদান পেয়েছি। চলতি বছর আমরা ১ হাজার ২’শ মিটার খনন করা হবে।

খনি উত্তোলন করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের জানান, রিসোর্স কনফার্ম করার পর যদি জানা যায়, এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ সম্পদ আছে। খনিজ সম্পদ আহরোন করে যদি লাভ হয় তাহলে আমরা সরকারকে খনি উত্তোলন করতে অনুরোধ করব।

এই কী ধরনের খনিজ সম্পদ থাকতে পারে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানকার বেজমেন্ট হাই সুতরাং এখানে ধাতব খনিজ পদার্থ যেমন লোহা, তামা, নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ এমনকি স্বর্ণও থাকতে পারে।