সৈয়দপুরে বাড়ির আংগিনায় ট্যাংকিতে মাছ চাষে ভাগ্য বদল

মোঃ জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর প্রতিনিধি (নিলফামারী)ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে বাড়ির আংগিনায় ট্যাংকিতে মাছ চাষে ভাগ্য বদল

ৈয়দপুর বিমানবন্দর সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ায় আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বাড়ির আঙিনায় ট্যাংকিতে দেশীয় মাছ চাষে করে দৃষ্টি কেড়েছেন গফুর নামের এক ব্যাক্তি। তিনি গত দুই বছরে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ চাষে সফল হয়েছেন। সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, বাড়ির আঙিনায় ট্যাংকি স্থাপন করে দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ করে অনেক মৎস্য চাষি সফল হয়েছেন।

তিনি জানান, এসব মৎস্য চাষিদের আগ্রহ দেখে মৎস্য বিভাগ থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক মাছ চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরামর্শ অনুযায়ী তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় ট্যাংকি স্থাপন করে দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়।

মৎস অধিদপ্তর সুত্র বলেন, প্রথম পর্যায়ে ওই পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদনে চাষিরা সফল হয়েছেন। সৈয়দপুর উপজেলায় ৫ ইউনিয়নে ৫৯ টি ট্যাংকিতে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ১৫-২০ হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিটি ট্যাংকির উচ্চতা প্রায় ৪-৫ ফুট। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এ পদ্ধতিতে ট্যাংকিতে উচ্চ-মূল্যের দেশি প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। সুত্রটি আরো জানায় , ট্যাংকিতে দেশি মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলার অনেক মানুষ। পূর্বের পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে অনেক বেশি লাভজনক।

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরের বিমানবন্দর পশ্চিম পাড়ার আব্দুল গফুর (৬৫) তার বাড়ির আঙিনায় ট্যাংকিতে দেশি প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। তার এসব ট্যাংকিতে কই, রুই, শিং ও রঙিন তেলাপিয়া মাছ চাষ করা হচ্ছে।

শুধু আব্দুল গফুরই নয়, একই পদ্ধতিতে বাংগালীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মণপুর গ্রামের খালেকুল ইসলাম (৩৮), কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন এর বদরুজ্জামান (৪০)সহ অনেকেই এখন ট্যাংকিতেই দেশি প্রজাতির মাছ চাষ করছেন। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে প্রচুর লাভবান হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদন করলে প্রচুর লাভবান হওয়া সম্ভব। বছরে ২ বার লাভের মুখ দেখা যায়।

বিমানবন্দর পশ্চিম পাড়ার মাছ চাষি আব্দুল গফুর বলেন, গ্রামে কারও বাড়িতে মেহমান বেড়াতে এলে আমার কাছে মাছ কিনতে আসেন প্রতিবেশীরা। ৩ থেকে ৪ মাস পর প্রতিটি ট্যাংকি থেকে ৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম ওজনের মাছ উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি মাছ বিক্রি হয় ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা দরে।

ট্যাংকিতে মাছ চাষ দেখতে আসা উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম (৪০) বলেন, আব্দুল গফুরের পানির ট্যাংকে মাছ চাষ দেখার জন্য আমি পার্বতীপুর থেকে এসেছি। এতদিন জানতাম পুকুরে মাছ পালন হয়। এখন দেখছি বাড়ির আঙিনায় ট্যাংকিতে মাছ করা সম্ভব । আমিও আগামীতে ট্যাংকিতে মাছ চাষ করবো।

সৈয়দপুর রাবেয়া ফ্লাওয়ার মিল সংলগ্ন বসবাস কারি সাংবাদিক এমএ করিম মিষ্টার বলেন, আমার বাড়ির পাশেই নিজের একটা পুকুর আছে। সেখানে হাজার হাজার টাকা খরচ করেও লাভের মুখ দেখিনি। গফুরের পানির ট্যাংকিতে মাছ চাষ করে লাভের কথা শুনে আমি আগামীতে ট্যাংকিতেই মাছ চাষাবাদ করবো।

সৈয়দপুর মৎস গবেষণা ইন্সটিটিউট এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শওকত আহমেদ জানান, এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে খাদ্য খরচ তুলনামুলক অনেক কম। মাছের উৎপাদন হার পুকুর বা জলাশয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এ পদ্ধতিতে চাষের ফলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাছের গুণগত মান উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত হয় এবং মাছের মৃত্যুহার নেই বললেই চলে।

সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আংগুরি বেগম বলেন, শুকনো মৌসুমে যখন পুকুরে পানি থাকে না, তখন ট্যাংকিতে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ লাভজনক। বিষেশ পদ্ধতিতে পানি বারবার ফিলটার করে সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত করে মাছের ব্যবহার যোগ্য করে তোলা হয়। এ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো, অল্প ঘনত্বে অধিক মাছ উৎপাদন করা। যার ফলে পানি অপচয়ের সুযোগ নেই। এছাড়া মাছের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়।

সৈয়দপুর মৎস গবেষণা ইন্সটিটিউট এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খন্দকার রসিদুল হাসান জানান, সৈয়দপুর শহর সহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে এখন ট্যাংকে দেশিয় মাছ চাষ করা হচ্ছে। অনেকের পুকুর নেই,পুকুরে পানিও থাকেও না। কিন্তু এ পদ্ধতিতে ট্যাংকির অল্প পানিতে মাছ চাষ করা যায়। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে পানির গুণাগুণ বৃদ্ধি ও রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।