আইসিই হেফাজত থেকে ৫ বছরের শিশু ও বাবাকে মুক্তির নির্দেশ মার্কিন বিচারকের

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
আইসিই হেফাজত থেকে ৫ বছরের শিশু ও বাবাকে মুক্তির নির্দেশ মার্কিন বিচারকের

ুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক টেক্সাসে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে থাকা ৫ বছরের এক শিশু ও তার বাবাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযানের সময় তাদের আটক নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এ নির্দেশ এলো।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেওয়া রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক ফ্রেড বিয়েরি বলেন, লিয়াম কোনেহো রামোস নামের শিশুটির আটক অবৈধ। একই সঙ্গে তিনি কিছু সরকারি মহলের নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার লালসা ও নিষ্ঠুরতা আরোপের কঠোর সমালোচনা করেন।

মিনিয়াপোলিস শহরের এক উপশহরে আইসিই কর্মকর্তারা লিয়ামকে আটক করার সময় তার নীল রঙের খরগোশ-টুপি ও স্পাইডারম্যান ব্যাকপ্যাক পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন অভিযানের প্রতীক হয়ে ওঠে।

রায়ে বিচারক বিয়েরি লেখেন, এই মামলার সূত্রপাত হয়েছে সরকারের প্রতিদিনের বহিষ্কার কোটার পেছনে ভুল পরিকল্পিত ও অদক্ষ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে যেখানে শিশুদের মানসিকভাবে আঘাত করতেও কুণ্ঠা নেই।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জটিল অভিবাসন ব্যবস্থার কারণে শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীরা নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য হতে পারেন। তবে তা বর্তমান ব্যবস্থার মতো বিশৃঙ্খল ও অমানবিক নীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়।

যদিও বিচারক কোটার নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি, হোয়াইট হাউসের নীতি বিষয়ক প্রধান স্টিফেন মিলার আগেই বলেছিলেন, প্রতিদিন ৩ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য রয়েছে।

ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, মিনেসোটায় চলমান এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসন প্রয়োগ অভিযান। এতে প্রায় ৩ হাজার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযানের ফলে অভিবাসন কর্মকর্তা ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিন সংঘর্ষ হচ্ছে, আর এতে দুজন মার্কিন নাগরিক ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।

কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, চলতি মাসে ওই উপশহরে অন্তত চারজন শিক্ষার্থীকে অভিবাসন কর্মকর্তারা আটক করেছেন, যাদের একজন লিয়াম।

স্কুল সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক বলেন, ২০ জানুয়ারি পরিবারের ড্রাইভওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে শিশুটিকে নামিয়ে বাড়ির দরজায় কড়া নাড়তে বলা হয়, যা তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের ধরতে টোপ হিসেবে ব্যবহারের শামিল বলে মন্তব্য করেন। তবে সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন দাবি করেন, শিশুর নিরাপত্তার জন্য একজন আইসিই কর্মকর্তা তার সঙ্গে ছিলেন।

এ ঘটনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, শিশুদের জন্য এসব গ্রেপ্তার মানসিকভাবে কষ্টকর হলেও শুধু অভিভাবক হওয়ায় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, শিশুটির বাবা আদ্রিয়ান কোনেহো আরিয়াস ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইকুয়েডর থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তবে পরিবারের আইনজীবীর ভাষ্য, তাদের সক্রিয় আশ্রয় আবেদন রয়েছে, যা অনুযায়ী তারা আইনগতভাবেই দেশটিতে অবস্থান করতে পারেন।

আটকের পর বাবা-ছেলেকে টেক্সাসের ডিলি শহরের এক কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখানে অসুস্থতা, অপুষ্টি ও শিশুদের দুরবস্থার অভিযোগ রয়েছে। টেক্সাসের দুই কংগ্রেস সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রো ও জাসমিন ক্রকেট কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।

কাস্ত্রো জানান, লিয়াম পুরো ৩০ মিনিট ঘুমিয়ে ছিল এবং তার বাবা তাকে বিষণ্ন ও দুঃখী বলে বর্ণনা করেন।

রায়ে বিচারক বাইবেলের উদ্ধৃতি ও শিশুটির ছবি যুক্ত করেন এবং লেখেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সম্পর্কে সরকারের অজ্ঞতা প্রকাশ করে। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় জর্জের বিরুদ্ধে থমাস জেফারসনের অভিযোগের তুলনাও টানেন।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিশু ও তার বাবার পক্ষে থাকা আইন প্রতিষ্ঠান জেনিফার স্কারবরো এক বিবৃতিতে জানায়, শিগগিরই তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হতে পারবেন।

এদিকে মিনেসোটা প্রশাসন রাজ্যে অভিবাসন অভিযান বন্ধের আহ্বান জানালেও শনিবার এক ফেডারেল বিচারক এ সংক্রান্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করেন।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট-শাসিত শহরগুলোতে চলমান বিক্ষোভে হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন যদি না সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা শহর ফেডারেল সহায়তা চায় বা ফেডারেল সম্পত্তি হুমকির মুখে পড়ে।