তানোরে ধানের শীষের কর্মীদের হামলায় দাঁড়িপাল্লার দুই সমর্থক আহত

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
তানোরে ধানের শীষের কর্মীদের হামলায় দাঁড়িপাল্লার দুই সমর্থক আহত

ির্বাচনি জনসভায় যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাজশাহীর তানোরে ধানের শীষের কর্মীদের হামলায় দাঁড়িপাল্লার দুই সমর্থক পিতা পুত্র আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়ন ইউপির গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে ঘটে হামলার ঘটনা। আহতরা হলেন গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামের মাসিকুল ইসলাম (২৩) ও তার পিতা মফিজ উদ্দিন (৬২)।

এঘটনায় আহত মাসিকুল ইসলাম বাদি হয়ে বাধাইড় ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাতেম আলী (৩৮), বিএনপি কর্মী সাফিউল ইসলাম (৩৫) ও মোহাম্মদ লিটন (৩০)কে আসামী করে শুক্রবার থানায় মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার সকালের দিকে আহত দুজনকে হাসপাতালে দেখতে আসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এঘটনায় ওই উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী–১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন মাসিকুল ইসলাম ও তার পিতা মফিজ উদ্দিন (৬২)। তাদের বাড়ি বাধাইড় ইউনিয়নের গাল্লা স্কুলপাড়া গ্রামে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে গোদাগাড়ীতে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন মাসিকুল ইসলাম।

এ সময় একই গ্রামের বাধাইড় ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাতেম আলী (৩৮), বিএনপি কর্মী সাফিউল ইসলাম (৩৫) ও মোহাম্মদ লিটন (৩০) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করে মাসিকুলকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মাসিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

তার চিৎকারে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার পিতা মফিজ উদ্দিন ও মাতা। এ সময় হামলাকারীরা কোদালের হাতলসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপরও আঘাত করে। এতে পিতা মফিজ উদ্দিনও গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় গ্রামবাসীরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেব । বর্তমানে পিতা–পুত্র দু’জনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে আহতদের খোঁজখবর নিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও রাজশাহী–১ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা আমীর প্রফেসর আব্দুল খালেক,বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ডা. ওবায়দুল্লাহ, তার সমন্বয়কারী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, তানোর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলমগীর হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, সেক্রেটারি ডিএম আক্কাছ আলী, মুন্ডুমালা পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, তানোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড উলামা বিভাগের সভাপতি মুফতি গোলাম কিবরিয়া বিন ইউনুস, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. সানাউল্লাহসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস প্রদান করেন।

তবে অভিযুক্তরা জানান, এটা নির্বাচনী সংক্রান্ত মারপিট না। পূর্বের দ্বন্দ্ব থেকে হট্টগোল হয়েছে। কিন্তু বিষয় টিকে নির্বাচনী হট্টগোল বলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।