তানোরে রাস্তা নির্মান হওয়ায় দুইগ্রামবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীরা উপকৃত

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
তানোরে রাস্তা নির্মান হওয়ায় দুইগ্রামবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীরা উপকৃত

াজশাহীর তানোরে গ্রামীণ রাস্তা নির্মানের কারনে দুগ্রামের কৃষকসহ স্কুল শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়ন ইউপির হাতিশাইল মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্কুলে যাতায়াতের এবং হাতিশাইল, বারোঘরিয়া গ্রামবাসীর প্রাণের দাবি ছিল রাস্তাটি নির্মানের জন্য।

গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর স্কুল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দুইগ্রাম বাসীর দাবির প্রেক্ষিতে এলজিইডি থেকে সম্প্রতি রাস্তা নির্মান করা হয় । প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং গ্রামবাসীর দূর্ভোগের শেষ ছিল না। রাস্তাটি নির্মানের ফলে সবার মাঝে এক প্রকার স্বস্তি বিরাজ করছে।

জানা গেছে, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মানের দরপত্র আহবান করা হয়। এক কিলোমিটার রাস্তা টির নির্মান ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। কিন্তু কাজের শুরুতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও গ্রামবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সম্প্রতি নির্মান কাজ শেষ হয়।

এক কিলোমিটার রাস্তার কারনে দুই গ্রামের কৃষক সহ দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দূর্দশার শেষ ছিল না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে পারত না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারত না। কারন সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটু সমান পানি জমে কাঁদায় একাকার হয়ে যেত রাস্তাটি। রাস্তার সামান্য পরিমান অংশে এইচবিবি করা ছিল। সেটি ভেঙে একাকার হয়ে পড়েছিল।

বারোঘরিয়া গ্রামের কৃষক শফিকুল কবিরাজ, ময়েজ সোনার, হাতিশাইল গ্রামের সাইফুল সহ অনেকে জানান, রাস্তাটি নির্মানের কারনে আমাদের কি পরিমান উপকার হয়েছে সেটা কল্পনাতীত। ধান, আলুসহ কৃষি পণ্য বাড়ির আঙ্গিনায় নেয়া যেত না। কোনভাবেই গাড়ি যেতে পারত না।

এইচবিবি ও কাঁচা মাটির রাস্তা ভেঙে একাকার হয়েছিল। কৃষি পণ্য জমি থেকে কেটে মুল রাস্তার ধারে মাড়াই করা হত। রাস্তাটি নির্মানের কারনে আগামী বোরো মৌসুমে ধান বাড়ির আঙ্গিনায় এনে মাড়াই করা যাবে। গ্রামে রাতে কেউ অসুস্থ হলে গাড়ী না আসার কারনে হাসপাতালে নেয়া যেত না। চরম দূর্দশা নিয়ে দুই গ্রামের শতশত পরিবার বসবাস করত। এখন রাস্তা নির্মান হওয়ার কারনে সবদিক দিয়ে সুবিধা হয়েছে।

হাতিশাইল মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হাসিনা বেগম ও প্রাথমিকের শিক্ষক মনোয়ার জানান, মাটির রাস্তার জন্য চরম সমস্যায় পড়তে হত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানি হলেও হাটু কাঁদা জমে থাকত রাস্তায়। স্কুলে আসা যাওয়ার একটি রাস্তা ছিল এটি। এখন রাস্তা হওয়ার কারনে এসব সমস্যায় আর পড়তে হবে না।

শিক্ষার্থী মারুফ, অনিকসহ অনেকে জানান, কাঁচা মাটির রাস্তা থাকার সময় যাতায়াতে খুব সমস্যা হত। বর্ষা মৌসুমে কেউ স্কুলে আসতে চাইত না। কারন রাস্তায় প্রচুর কাঁদা পানি জমে থাকত। পোষাকে কাঁদা পানি লেগে যেত। পাকা রাস্তাটি হওয়ার জন্য আর কাঁদা পানির সমস্যা থাকবে না। সাইকেল নিয়ে আরামে স্কুলে যাতায়াত করা যাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, দুটি স্কুল থাকার কারনে রাস্তাটি নির্মানের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে স্কুলে আসত না শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও দুই গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে জনসাধারণ চলাচলে ও কৃষি পণ্য চনা নেয়াতে সমস্যা সৃষ্টি হত। সবার দাবির প্রেক্ষিতে রাস্তাটি নতুন ভাবে নির্মান করা হয়েছে। আশা করছি সবার দূর্ভোগ দূর হয়েছে।