তানোরে ফসলী জমিতে অবৈধ সেচ বোরিং স্থাপন

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
তানোরে ফসলী জমিতে অবৈধ সেচ বোরিং স্থাপন

াজশাহীর তানোরে আবারো অবৈধ সেচ বোরিং স্থাপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির কুজিশহর মৌজায় ঘটে রয়েছে বোরিং স্থাপনের ঘটনাটি।

এঘটনায় গভীর নলকূপের মালিক কুজিশহর গ্রামের সামসুদ্দিন বাদি হয়ে অবৈধ বোরিং স্থাপন কারী ওই গ্রামের ফিরোজকে বিবাদী করে উপজেলা নির্বাহীর দপ্তরে গত বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের অনুলিপি কৃষি অফিস, বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী ও থানার ওসির নিকট দেয়া হয়েছে।

এর আগেও ওই গ্রামের পশ্চিমে অনুমোদিত সেচ মটরের কয়েক হাত দূরে অবৈধ বোরিং স্থাপন করে সোলার প্যানেল ও ডিজেল দিয়ে সেচ দেয়া হচ্ছে। ওই সময় অভিযোগ হলেও রহস্য জনক কারনে সেচ কমিটি ও বিএমডিএ কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যার কারনে আরেকটি বোরিং স্থাপন করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় কৃষক দের। এঘটনায় উভয়ের মধ্যে এক প্রকার উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগে উল্লেখ, উপজেলার কলমা ইউনিয়ন ইউপির কুজিশহর মৌজায় অবস্থিত আরএস ৩৬০ দাগে বিএমডিএর গভীর নলকূপ ছিল। নলকূপ টি প্রায় ৩৬ বছর আগে সামসুদ্দিন কিনে নিয়ে অদ্যবদি সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

সেখান থেকে প্রায় ১৬ শো ফিট দূরে আরেকটি গভীর নলকূপ ছিল। কিন্তু গভীর নলকূপ টি অকেজো হওয়ার কারনে সেচ মটর স্থাপন করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন মুনসুর নামের এক ব্যক্তি। ওই এলাকায় এভাবেই সেচ কার্যক্রম চলছে। এঅবস্থায় শক্রতার জের ধরে গভীর নলকূপ থেকে মাত্র ৬০০ ফিট দুরে আরএস ৬৩ দাগে ফিরোজ কবিরাজ নামের এক ব্যক্তি নতুন ভাবে অনুমোদন ছাড়াই বোরিং স্থাপন করছেন।

স্থানীয়রা জানান, কুজিশহর গ্রামের পশ্চিম দিকে একাধিক সেচ মটর রয়েছে। সেচের জন্য নতুন ভাবে কোন বোরিং স্থাপনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ফিরোজ কবিরাজ ও সামসুদ্দিনের মধ্যে সেচ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্ব থেকে বোরিং স্থাপন শুরু করেন তিনি।

আলুর জমিতে ফসল নষ্ট করে বোরিং স্থাপন করছেন। এর আগে আমিনুল নামের এক ব্যক্তি অনুমোদিত সেচ মটরের কয়েক হাত দূরে ৮ হর্সের বোরিং স্থাপন করে সোলার প্যানেল ও ডিজেল দিয়ে সেচ দিচ্ছে। সেচ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারনে যদি এভাবে একের পর এক বোরিং স্থাপন হয় তাহলে ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ পানি থাকবে না। এসব অবৈধ বা অনুমোদন ছাড়া বোরিং স্থাপন হলে সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তানাহলে একজনের দেখাদেখি আরেকজন বোরিং করা শুরু করবেন। আর এসবের মদদ দেয় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

সুত্র জানায়, এউপজেলা বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এউপজেলার ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার চরম হুমকিতে পড়ে রয়েছে। একারনে ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ করে দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের মদদে একের পর এক বোরিং স্থাপন হতেই আছে। এছাড়াও উপজেলায় কোন ধরনের সেচ বোরিং করতে হলে উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু ফিরোজ কবিরাজ কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই বোরিং স্থাপন করছেন।

এর আগেও মুনসুরের বৈধ সেচ মটরের মাত্র কয়েক হাত দূরে আমিনুল নামের এক ব্যক্তি বোরিং স্থাপন করে সোলার প্যানেল দিয়ে সেচ দিচ্ছেন। ওই সময় মুনসুর নির্বাহী দপ্তর, বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলীর দপ্তর ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনে তার বোরিং চলমান রয়েছে।

অভিযোগ কারী সামসুদ্দিন জানান, ব্যক্তি মালিকানা গভীর নলকূপের মাত্র ৬০০ ফিট দূরে কিভাবে বোরিং হয় বুঝে আসেনা। গত বৃহস্পতিবার বোরিং স্থাপন করার সময় নির্বাহী দপ্তর ও বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলীর নিকট অভিযোগ দেয়া হলে অফিস থেকে লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।

পরদিন শুক্রবার পুনরায় বোরিং স্থাপনের কাজ শুরু করলে ইউএনও অফিস থেকে লোক আসে। বোরিংয়ে কাজ করা লোকজন দূরে পালিয়ে যায়। অফিসের লোকজন চলে আসার পর পুনরায় কাজ শুরু করে বোরিং স্থাপন শেষ করেন। অভিযোগ দেয়ার পরও যদি কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে আমরাও বোরিং স্থাপন করা শুরু করব।

অবৈধ বোরিং স্থাপন কারী ফিরোজ কবিরাজ জানান, সামসুদ্দিন সেচ হার অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকে।

সঠিক ভাবে সেচ দেয় না। কোন কিছু হলেই স্কীমভূক্ত কৃষকের কাছ থেকে টাকা আদায় করে থাকে। একারনে বোরিং স্থাপন করছি। অনুমতি ছাড়া সেচ বোরিং করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার জমিতে বোরিং করে সোলার প্যানেলে সেচ পরিচালনা করা হবে। এতে কারো কিছু করার নাই। কারন আমিনুলও অনুমতি ছাড়াই বোরিং করে সোলার প্যানেলে পানি তুলছেন। কারো কিছুই করনীয় নাই।

বোরিং করতে হলে সেচ কমিটির অনুমোদন লাগে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কৃষক সেচ দেয়া নিয়ে কথা। আমিতো বিদ্যুৎ ব্যবহার করছিনা। গত হর্সের বোরিং করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ৮ হর্সের বোরিং স্থাপন করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী (অতি) জামিনুর রহমানের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর লোক পাঠানো হয়েছে। কাজ বন্ধ করা হবে। এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ হয়েছিল অবৈধ বোরিংয়ের বিরুদ্ধে কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, সোলার প্যানেলে বোরিং চলমান রয়েছে জানতে চাইলে কোন কথা না বলে দেখছি দেখছি করেন তিনি।

শুক্রবার সকালের দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাঈমা খানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে বোরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিএমডিএর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন ছাড়া সেচ বোরিং করার কোন এখতিয়ার নেই। আর এমন হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।