বিলকুমারী বিলে দলবেঁধে মাছ ধরা উৎসব

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি (রাজশাহী) ঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
বিলকুমারী বিলে দলবেঁধে মাছ ধরা উৎসব

াজশাহীর তানোরে শিবনদী বা বিলকুমারী বিলে দলবেঁধে পলাই দিয়ে মাছ ধরার উৎসব শুরু হয়েছে । ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে এসব মাছ মারছেন মৎস্য জীবি থেকে শুরু করে সাধারণরা।

দেখা গেছে,সৌখিন মৎস্যজীবীরা দলবেঁধে পলাই দিয়ে মাছ ধরছেন। কারো পলাই জালে উঠছে বোয়াল,শিং,রুই,কাতলামাছ। আর যখনি কারো পলাইয়ে মাছ বাঁধছে তখনই শুরু হয়ে যাচ্ছে হইচই।

একেকটি মাছ বাঁধলে মনে হচ্ছে তাদের পলাইয়ে সোনার হরিণ বেঁধেছে। মাছ ছোট হোক আর বড় হোক মাছ বাঁধলেই সবাই ব্যাপক খুশি হয়ে উঠছে।

দেখে মনে হচ্ছে যেন মাছ শিকারের আনন্দ তাদের কাছে ঈদের আনন্দ হয়ে উঠেছে। শিবনদীতে পলাই দিয়ে মাছ শিকার করতে আশা মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম গ্রামের আব্দুল, জব্বার, বাদল জানান, তারা প্রতিবছরই বিলকুমারী বিলে দলবেঁধে মাছ ধরতে আসেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মাছ ধরে। আবার অনেকে রাতেও ধরছে মাছ।

তারা একেকজন ১০ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত পলাই দিয়ে মাছ ধরে থাকেন। দলের মধ্যে কেউ মাছ না পেলে অন্যরা মিলে তাকে মাছ দিয়ে হাসিখুশি তে বাড়িতে পাঠান। বাদল বলেন,মাছ মারা তাদের পেশা না শখ। প্রতি বছরে তারা দলবেঁধে মাছ শিকারের জন্য শিবনদীতে আসেন।

সারাদিন বিলে মাছ ধরে সময় কেটে যায়। একেকজন নিম্মে ৫ কেজি থেকে ঊর্ধ্বে ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত মাছ ধরে থাকে। আর বিলের মাছের সব সময় চাহিদা বেশি। বিভিন্ন প্রকার দেশী জাতীয় মাছ বেশি থাকে বিলে। এসব মাছের চাহিদা যেমন পর্যাপ্ত তেমনি দামও ভালো থাকে।

ঢোরসা গ্রামের মজিদুল ইসলাম বলেন,আমরা প্রতিবছর বন্যার পানি নামার সাথে সাথে গ্রুপ গ্রুপ হয়ে বিলের খাড়ি ঘের করে ঘিরে রাখি। পানি নামার সাথে সাথে দলবেঁধে পলাইসহ স্যালোমেশিন দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরি। মাছও ভালো পাওয়া যায়।

তানোর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাজু চৌধুরী জানান, শিবনদীতে সবরকমের মাছ থাকে। বন্যা হলে বিভিন্ন পুকুরের চাষ করা মাছ এই বিলে এসে জমা হয়। তানোরের প্রায় এক হাজার মত মৎস্যজীবী বিলে মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।