থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচন আজ, হচ্ছে গণভোটও

জিনিউজবিডি২৪ ডেস্ক ঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচন আজ, হচ্ছে গণভোটও

কদিকে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি আর অন্যদিকে সংস্কার— এই দুই বাস্তবতাকে সামনে রেখে থাইল্যান্ডে শুরু হয়েছে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। স্থানীয় সময় আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন। কেবল নতুন সরকার নির্বাচনই নয়, আজকের ভোটে দেশটির বর্তমান সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়েও সাধারণ মানুষের মতামত বা গণভোট নেওয়া হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।

৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিলেও মূল লড়াই হচ্ছে আধুনিক সংস্কারপন্থি, সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ও জনপ্রিয় জনতুষ্টিবাদী দলগুলোর মধ্যে।

থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পাঁচ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের এই নির্বাচনে যারা আজ সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাদের জন্য ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই আগাম ভোটের সুযোগ ছিল। ইতোমধ্যে ২২ লাখেরও বেশি মানুষ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রধান পক্ষ

১. পিপলস পার্টি : নাত্তাফং রুয়েংপানিয়াউয়াতের নেতৃত্বে এই প্রগতিশীল দলটি বর্তমানে জনমত জরিপে সবার চেয়ে এগিয়ে। এটি মূলত নিষিদ্ধ হওয়া ‘মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি’-র নতুন রূপ। তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো সেনাবাহিনী ও আদালতের ক্ষমতা হ্রাস করা এবং বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ করা। তবে তাদের এই সংস্কার পরিকল্পনা অন্যান্য দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও জোটবদ্ধ বিরোধিতার মুখে ক্ষমতার বাইরে থেকে যেতে পারে।

২. ভুমজাইথাই : বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও তাঁর দল ভুমজাইথাই সেনাবাহিনী ও রাজপরিবার পন্থীদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের। গত সেপ্টেম্বর থেকে অনুতিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতা হারালে তিনি দায়িত্ব পান। ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে দিয়ে তিনি এই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এবারের প্রচারণায় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতি শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।

৩. ফেউ থাই : কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অনুসারীদের এই দলটি মূলত থাকসিনের ভাগ্নে ইয়োদচানান ওয়ংসাওয়াতকে প্রধানমন্ত্রী করার লক্ষ্য নিয়ে লড়ছে। তারা সাধারণ মানুষের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা এবং ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে।

থাইল্যান্ডের সংসদের ৫০০টি আসনের কোনোটিতেই কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের পর কয়েকটি দল মিলে ‘জোট সরকার’ গঠনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আজকের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে একটি বিশেষ বিষয়ে মতামত চাওয়া হচ্ছে— তা হলো ২০১৭ সালে সেনা শাসনামলে প্রণীত বর্তমান সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না। গণতন্ত্রকামীরা মনে করেন, নতুন সংবিধান হলে দেশ পরিচালনায় সেনাবাহিনী বা আদালতের হস্তক্ষেপ কমবে। তবে রক্ষণশীলরা আশঙ্কা করছেন, সংবিধান পরিবর্তন করলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।