রাষ্ট্রীয় মামলার আসামী সেন্টুর সাথে মামুনুল হক: জুলাই শহিদদের রক্ত কি ভুলে গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মামলার আসামী সেন্টুর সাথে মামুনুল হক: জুলাই শহিদদের রক্ত কি ভুলে গেল

ছবিঃ ঢাকা ১৩ আসনের প্রার্থী মামুনুল হক সাথে অওয়ামীলীগের ৩১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

াজধানীর মোহাম্মদপুরে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে সাবেক কাউন্সিলর সফিকুল ইসলাম সেন্টু। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে জুলাই মাসের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে—যা বর্তমানে তদন্তাধীন। এমন অবস্থায় সম্প্রতি তাকে আলোচিত ধর্মীয় নেতা মামুনুল হকের সঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রকাশ্যে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভ।

প্রশ্ন উঠছে— যিনি জুলাইয়ের রক্তাক্ত অধ্যায়ের সঙ্গে অভিযুক্ত, তার সঙ্গেই কেন রাজনৈতিক বা সামাজিক তৎপরতা?

মামুনুল হক কি জানতেন সেন্টুর বিরুদ্ধে থাকা গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি? নাকি এটি কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ?জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ কি আজ কেবল স্মৃতির পাতায়? ছাত্র-জনতার ওপর গুলির অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো কি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য?

ছবিঃ জাহাঙ্গির কবির নানকের সাথে আওয়ামীলীগের ৩১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

এতে কী বার্তা যাচ্ছে আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের কাছে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আইনের চোখে অভিযুক্ত একজন কীভাবে প্রকাশ্যে এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন?

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। অনেকেই লিখছেন—যাদের হাতে জুলাইয়ের রক্ত লেগে আছে বলে অভিযোগ, তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা কি শুরু হয়ে গেছে?

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছে, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এই দৃশ্য সাংঘর্ষিক। তারা দাবি করছেন—সেন্টুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।

এ বিষয়ে সফিকুল ইসলাম সেন্টু কিংবা মামুনুল হকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।তবে এলাকাবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন—

জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের দায় যাদের কাঁধে, তাদের সঙ্গেই কি গড়ে উঠছে আগামী দিনের রাজনীতি?