মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় হাজতে প্রেরণের প্রতিবাদে বদলগাছীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

মো: ফজলুর রহমান, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় হাজতে প্রেরণের প্রতিবাদে বদলগাছীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ওগাঁর বদলগাছীতে খড়ের স্তুপে পলিথিন উড়ে যাওয়ার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে এমরান ওরফে একরাম মিয়া (৪০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টা মামলা করা হয়েছে। মামলায় গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় থানা পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়।

মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবীতে বাদীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পশ্চিম বালুভরা গ্রামের পাটনঘাটা মোড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

এসময় সাবেক ইউপি মেম্বার ও স্থানীয় বাসীন্দা ওয়াহেদ আলী সরদার এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- ভুক্তভোগীর (এমরান ওরফে একরাম মিয়া) স্ত্রী সুমি আক্তার রুমি, গৃহবধু ফেন্সি, গৃহবধু মরিয়ম ও প্রতিবেশী শাপলা আক্তার সহ অন্যরা। এসময় গ্রামের প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- প্রবাসী এমরান ওরফে একরাম মিয়া চট্টগ্রামের মহেষখালির বাসীন্দা। তিনি পশ্চিম বালুভরা গ্রামের হারুনুর রশীদের মেয়ে সুমি আক্তার রুমিকে গত ১৫ বছর আগে বিয়ে করেন। তিনি গত ৬ মাস থেকে শশুর বাড়িতে বসবাস করছেন। তার বাড়ির দরজার পাশে প্রতিবেশী আব্দুস সাত্তারের খড়ের পালা (স্তুপ)। খড়ের স্তুপ নিয়ে প্রায় দুই পরিবারের ঝগড়া হতো। আব্দুস সাত্তারের মেয়ে মিনি বানু তার স্বামী সাহিদ ও দুই সন্তানকে নিয়ে গত কয়েক বছর থেকে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।

গত ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিনি বানু খড় নিতে গেলে একরাম মিয়া তাকে জোরপূর্ক ধর্ষণ চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার প্রায় ১ মাস পর মিনি বানু বাদী হয়ে একরাম মিয়ার নামে গত ১ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করেন। মামলায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থানা পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়।

মামলার ৫ নম্বর স্বাক্ষী নাছিমা বলেন- এমরান ওরফে একরাম মিয়া এলাকার জামাই। গত কয়েকমাস থেকে তিনি বসবাস করছেন। তার ব্যবহারে এলাকার সবাই সন্তুষ্ট। তার নামে যে ধর্ষণ চেষ্টার কথা বলা হয়েছে সম্পূর্ন মিথ্যা। এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। তবে মিনি বানুদের খড়ের পালায় পলেথিন উড়ে যাওয়া নিয়ে দুই পরিবারের ঝগড়া হয়েছে।

সাবেক ইউপি মেম্বার ও স্থানীয় বাসীন্দা ওয়াহেদ আলী সরদার বলেন- গতকয়েক বছর থেকে মিনি বানু স্বামী সন্তান নিয়ে তার বাবার বাড়িতে বসবাস করছে। তার বিরুপ আচরণে প্রতিবেশীরা বিরক্ত। মাঝে ঝগড়া হয়। এসব নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিসও হয়েছে। তবে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা কাঁধে নিয়ে এমরান ওরফে একরাম মিয়া এখন জেলহাজতে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুমি আক্তার রুমি বলেন- স্বামীর নামে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার কারণে স্বামী বিদেশ যেতে পারছে না। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানাই।

মামলার বাদী মিনি বানুর বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন- আমাদের জমিতে খড়ের পালা। তারা মুরগির ময়লা-আর্বজনা খড়ের মধ্যে ফেলে এ নিয়ে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে। উল্টো মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়। ঘটনায় আদালতে মামলা করেছি। আমরা আদালতে বুঝবো।