শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

খুলনা হাসপাতালে ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম : ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৮১ বার পঠিত

দিনভর মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের দখলে থাকে খুলনা জেনারেল সদর হাসপাতাল প্রতিনিয়ত একটি মহল। সকাল থেকেই তারা হাসপাতালের বহি:বিভাগ ও চিকিৎসকদের চেম্বারে অবাধ বিচরণ করতে থাকে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর ব্যবস্থাপত্র নিয়ে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভরা শুরু করেন টানাটানি।

একজনের ছবি তোলা শেষ হলে আরেক রোগীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ছবি তোলেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে এই চিত্র দেখা যায়। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানিতে দিনকে দিন ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসবকে কেন্দ্রে অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহম্মেদ বলেন, সপ্তাহে দুই দিন দুপুর ১২টার পর ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিট করার জন্য নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় রোগী ডাক্তারের চেম্বারে থাকলে ওষুধ প্রতিনিধি ডাক্তারের কক্ষে ঢুকতে পারবে না। রোগীর ব্যবস্থাপত্র নিয়ে, টানাহেঁচড়া করা ও দেখার এখতিতিয়ার ওষুধ প্রতিনিধিদের নেই। আমার নিদের্শনা যদি ওষুধ কোম্পানীরা না মানেলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দলে দলে ভাগ হয়ে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের বহি: বিভাগের সামনে ও ভেতরে ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া করছেন। ছবি তোলেন, দেখেন কোন কোম্পানীর ওষুধ লেখা হয়েছে। ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন প্রতিনিধি অবস্থান করছিলেন। জরুরি বিভাগের কর্মরত এক স্টাফ তাদেরকে চলে যেতে বললেও তারা কোন কর্ণপাত করেননি।

অনেক দাপটের সাথে চালিয়ে যান রোগীদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি। নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মহিদুল হক শান্ত বলেন, কোমরে হাড়ের সমস্যাজনিত কারণে বহি:বিভাগ থেকে টিকিট কেটে ৭নং অর্থোপেডিক ডাক্তারকে দেখানোর জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। এ সময় এক ওষুধ প্রতিনিধি এসে ধাক্কা মেরে ডাক্তার চেম্বারের সামনে দাঁড়ান। তখন খুব রাগ হচ্ছিলো।

নিজের রাগকে কন্ট্রোল করি। তিনি বলেন, ওষুধ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেন। যার কারণে ডাক্তাররা দেখেও না দেখার ভান করেন। দেখা যায়, অফিস সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার নিয়ম না থাকলেও সকাল ৯টার আগে আগেই দলে দলে ভাগ হয়ে সেখানে অবস্থান নেন বিভিন্ন কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা।

ডাক্তারের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় থাকার সুযোগ নেন তারা। কোনো কক্ষ থেকে রোগী বের হওয়া মাত্রই তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন। ডাক্তার কোন কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন তা জানার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ আবার ডাক্তারের লেখা ওষধের বদলে নিজের কোম্পানির ওষুধ কেনারও পরামর্শ দেন। কেউ সুযোগ বুঝেই ঢুকে পড়েন ডাক্তারের কক্ষে।

রোগী দেখার সময় সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা নিজ কোম্পানির ওষুধ লেখানোর চেষ্টা করেন। সকাল থেকে জরুরি বিভাগ ও বহিঃবিভাগ কক্ষের সামনে প্রতিদিন অবস্থান করেন বেশ কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এ সময় হাসপাতালে রোগীর প্রচন্ড ভিড় থাকে। একেকজন রোগী ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হন অমনি তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানাটানি শুরু করে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা।

কেউ তাদের ছবি ওঠানোর বিষয়টি ফলো করলে তারা দ্রুত সটকে পড়েন। অবস্থান নেন হাসপাতালের মূল ভবনের প্রবেশ গেটের সামনে। আবার কৌশলে কয়েকটি ব্যবস্থাপত্র দেখার পর হঠাৎই ডাক্তারের কক্ষে ঢুকে পড়েন। পাশে দাঁড়িয়ে থেকে নানাভাবে ডাক্তারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীর উপস্থিতি টের পেলে দ্রুত সটকে পড়েন। তাদের এমন দৌরাত্ম হাসপাতালের প্রতিদিনের চিত্র। এ অবস্থায় নার্স, ব্রাদাররা যেন অনেকটাই অসহায়। রোগীসহ তাদের স্বজনরাও চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451