মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিটিভির ঈদ আড্ডা চার তারকা ঝিনাইদহ বাজারে অপুষ্ট পাকা আম ও লিচু বিক্রয় হচ্ছে তানোরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন দামেও খুশি গাবতলীর বালিযাদিঘী ইউনিয়নে অসহায়দের ভিজিএফ’র নগদ অর্থ বিতরণ যবিপ্রবি’র গবেষণায় উঠে এসেছে টাকাতেও করোনাভাইরাস নমুনা শুধু করোনা নয়, যে কোন দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশে থাকে – হুইপ গোদাগাড়ীতে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ৪০০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ গাবতলীতে আড়াই হাজার অসহায়কে শাড়ী-লুঙ্গী দিলেন আ’লীগ নেতা রিবন জয়পুরহাটে পুলিশ সদস্যের পরিবারবর্গের নিকট আইজিপি ঈদ উপহার বিতরন বসুরহাটে যাত্রীবাহি যানবাহন ভাংচুর ও নিরাপত্তাসহ ৪ দফা দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন

তানোরে চালের বাজার বাড়তি দিশেহারা নিম্ম আয়ের মানুষ

আব্দুস সবুর, তানোর প্রতিনিধি(রাজশাহী) ঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০
  • ৭৬ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের আব্দুল ওহাব স্ত্রী তিন ছেলের সংসার পেশায় তিন চাকার চার্জ ব্যাটারির ভ্যান চালাতেন।কিন্তু করোনাভাইরাসের সময় ভ্যান বিক্রি করে বিভিন্ন এঞ্জিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসারের চাকা একটু সচল করতে প্রায় লাখ টাকা দিয়ে চার্জ দেয়া ছোট তিন মোটা চাকার বড় আকারের ভ্যান কিনেন। সম্পূর্ণ ঋণের টাকায় কেনা।

প্রতি সপ্তাহে কয়েকটি এঞ্জিওতে দিতে হয় কিস্তি। এদিকে নেই তেমন ভাড়া পাইনি তেমন অনুদানও। টেনে মেনে চলে সংসার। তিন বেলার পরিবর্তে দু বেলা খেয়ে চালাচ্ছেন সংসার । খেতে পাক না পাক কিস্তি দিতেই হবে। ঝড় বৃষ্টি যাই হোক পেটের ক্ষুধা মিটাতে ও কিস্তির টাকা জোগাড় স্ত্রী ছেলেদের দুবেলা মুখে খাবার দিতে রাস্তায় থাকতে হয় সার্বক্ষণিক।

লকডাউনের আগে কিছুটা ভালো থাকলেও লকডাউনের পর থেকে আয় রোজগার কমে গেলেও ব্যয় বেড়েই চলেছে। তারমত শতশত ভ্যান অটো চালক থেকে শুরু করে নিম্ম মধ্য বিত্ত ব্যাক্তিদের চলছে হাহাকারের সংসার। ওহাবের বাড়ি রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের গুবিরপাড়া গ্রামে। ভিটে বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই।শুধু তারই না এমন হাহাকারের জীবন চলছে পৌর সদর থেকে শুরু করে উপজেলার গ্রাম গঞ্জের শতশত জনসাধারণের। যাদের দিনগুলো যাচ্ছে মারাত্মক অভাবে।

এসমস্ত জনসাধারণকে সব কিছু কিনে খেতে হয়। লকডাউনের সময় আতঙ্কে হঠাৎ করে চাল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এক লাফে প্রচুর ভাবে বাড়িয়ে দেয় চালের দাম। দেশের মন্ত্রী আমলারা গলাবাজি করে বলছেন দেশে চালের কোন ঘাটতি নাই। তাহলে কেন বেড়ে গেল চালের দাম এমন প্রশ্ন হাজারো দরিদ্র মানুষের। এতে করে বাজার মনিটরিঙের অভাবের কারনেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাড়িয়ে দিয়েছেন চালের দাম বলেও দাবি অনেকের। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জোরালো ভুমিকার আহবান জানান নিম্ম আয়ের মানুষরা।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের জন্য এবং লকডাউনের কারনে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ব্যাপক হারে চালের দাম বেড়ে যায়। সেই দাম চলমান ছিল গত মাসেও। কিন্তু চলতি মাস থেকেই আবারো বেড়ে যায় চালের দাম ।কোন ধরনের কারন ছাড়াই বস্তা প্রতি প্রকার ভেদে ৫০, ৬০, ৭০,৮০ এমনকি ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে । এউপজেলার মানুষরা বেশ কয়েক ধরনের চালের ভাত খেয়ে থাকেন।

নিম্ম মধ্য বিত্ত দিন মজুর খেটে খাওয়া জনসাধারণরা তামড়ি নামক চালের ভাত খেয়ে থাকেন। কারন সব চেয়ে দাম কম এচালের। করোনার আগে দাম কম থাকলেও লাফিয়ে ২০০, ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বস্তা প্রতি বেড়ে যায়। গত মাসে এই তামড়ি চাল ১৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে যার মুল্য দাড়িয়েছে ১৮০০ টাকায়, এর পরেই সুমন স্বর্ণা চাল যা আগে ছিল ২১০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ২২৫০ টাকা, জিরা চাল আগে ছিল ২৩৫০ টাকা বেড়ে ২৪০০ টাকা এবং কাটারি জাতের চাল ২৪০০ থেকে ২৪৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে । ব্যবসায়ী অয়াদুদ জামান জানান চলতি সপ্তাহে ধানের বাজার মনে ২০ টাকা কমেছে। এজন্য আসা করা যাচ্ছে চালের দামও কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে ধারনা তাঁর।

সুত্রে মতে, প্রতিটি দোকানে সরকারের নির্ধারণ করা মুল্য তালিকা থাকতে হবে। কোন দোকানেই নেই সেই মুল্য তালিকা। যার ফলে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোহায় দিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে দাম। আদিকাল থেকে এউপজেলা বাসির প্রধান খাবার ভাত। এক বেলা না খেলে কোন ভাবেই চলেনা। নির্ধারিত মুল্য তালিকা থাকলে অনেকাংশেই সিন্ডিকেট কমে আসতে পারে। মাঝে মধ্যে ভোক্তা অধিকারের কর্তা বাবুদের দেখা যায়।

তাও বছরে দু এক বার। যেই কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান উৎপাদন করে দেশের খাদ্য ঘাটতি পুরুন করছেন। ওই কৃষক ন্যায্য মুল্য পায়না। হাত বদলের সাথে সাথে ফড়িয়া চক্ররা লাভ গুনে কয়েকগুণ। উপজেলা থেকে বছরের প্রায় প্রতিটি দিন নিম্মে ২০/৩০ ঊর্ধ্বে ৪০ ট্রাক করে ধান দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়।

এজন্য প্রতিটি দোকানে নির্ধারিত মুল্য তালিকা ঝুলানো এবং নিয়োমিত হাট বাজার মনিটরিঙয়ের জোরালো দাবি তুলেছেন ভোক্তারা। চালের সাথে সাথে প্রতিটি নিত্যপন্যেরও বাড়তি দাম। শুধু মাত্র সরকারী বে সরকারী চাকুরিজিবিরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। কারন তাঁরা প্রতি মাসে পাচ্ছেন বেতন ভাতা। বাকি প্রায় সব শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে রয়েছে কিছু না কিছুর অভাব। যার কারনেও এক কেন্দ্রিক হয়ে পড়ছেন মানুষরা।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন অতিশীঘ্রই বাজার ঘাটে অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত মুল্য তালিকা এবং মনিটরিঙয়ের বিষয়েও জোরালো ভুমিকা রাখা হবে। যারা সিন্ডিকেট করবে তাদের আইনের আওতায় আনতে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবেনা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451