সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ব্যবসা করার সূচকগুলি কঠোরভাবে মেনে চলা / সমর্থন করা উচিত করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যাতে কোন ভাবেই দেশে প্রবেশ করতে না পারে – জেলা প্রশাসক বাগেরহাট ডিসির বদলি আদেশ স্থগিতের জন্য যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে নারী ও শিশুসহ ৬ জন আটক মোড়েলগঞ্জে ৪৩ টি মুরগী জবাই করে হত্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ময়মনসিংহে সপ্তাহব্যাপি চিত্র প্রদর্শনী শুরু করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখ মৃত্যু ছাড়াল এই ঈদে বিনোদনস্পট যেন আত্রাই সেতু গোদাগাড়ীতে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আত্রাই শ্রমিকলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার ডিস্যালিনেশন প্রকল্প কাজ শুরু জানে না প্রশাসন

গাজী যুবায়ের আলম, ব্যুরো প্রধান, খুলনা ঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০
  • ৮৩ বার পঠিত

মোংলায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার ডিস্যালিনেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, তবে জানেন না উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কেউই। এ প্রকল্পের আওতায় মোংলা-রামপাল উপজেলায় ২০২টি স্বয়ংক্রিয় সৌরচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট স্থাপন করার কথা রয়েছে। প্রকল্প শুরুর ১২ মাসে তৈরি করেছে মাত্র ১৫টি ইউনিট।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকী দিয়ে নামে মাত্র মোংলায় কাজ শুরু হলেও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করছে পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট যা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরে আছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। তবে খোঁজ নিয়ে ট্রাস্ট ফান্ডের কাজের গুণগতমান ও কোন ঠিকাদার কাজ করেছে তা খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

মোংলা উপজেলা উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত এলাকার মানুষের সুপীয় পানির দুর্দশার কথা বিবেচনা করে পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। মোংলা-রামপালের সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের মিষ্টি পানির যে একটি বড় সমস্যা তা তিনি নিজের চোখেই দেখেন। মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন শাখা-২ গত ২০১৯ সালের ২অক্টোবর স্বাক্ষরিত প্রশাসনিক আদেশ’র মাধ্যমে (স্মারক নং-২২.০০.০০০০.০৮৬.১৪.০৮৮.১৯.৪৩০) মোংলা ও রামপাল উপজেলায় সোলার ডিস্যালিনেশন প¬ান্ট স্থাপন করা হবে বলে জানা যায়।

এ প্রকল্পের আওতায় মোংলা-রামপাল অঞ্চলের দুস্থ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ করা হবে বলে চিঠিতে উলে¬খ করা হয়। এখানে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২টি স্বয়ংক্রিয় সৌরচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট স্থাপন করার কথা রয়েছে। প্রকল্পের মূল মেয়াদকাল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হলো ”বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট”। প্রশাসনিক আদেশে প্রকল্পের আওতায় “প্রোজেক্ট ইমপি-মেন্টেশন কমিটি” এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে “প্রোজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি” গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন এলাকায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে অনুমোদিত প্রকল্পের সংশি¬ষ্ট তথ্য সম্বলিত দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপন করার কথাও বলা আছে এ আদেশে কিন্ত তার কিছুই করেননি এ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্পের কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও উপ-প্রকল্প পরিচালক মোঃ ইসকান্দার হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে মোংলা উপজেলা বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে রামপাল উপজেলায়ও কাজ শুরু করা হবে। তবে কাজের গুণগতমানের ব্যাপারে জানতে চাইলে পারিবারিক কাজে ব্যস্ত বলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি।

ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্পের কাজের বিষয়ে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার ও বুড়িরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, কিসের প্রকল্প আর কি কাজ, কোথায় হচ্ছে কিছুই জানি না। তবে গ্রাহকদের কাছে জানতে পেরেছি, ৭৫০ লিটারের ২টি পানির ট্যাঙ্ক, ৫টি প্যানেল, ১টি সোলার বসানো হয়েছে, যা এক একটি স্থানে কোন রকম ফেলে রাখা হয়েছে।

তবে শুরুতেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। মোংলা উপজেলা নিবার্হী অফিসার কমলেশ মজুমদার বলেন, ইতোপূর্বে প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানা ছিল না। তবে গত ১৯ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও প্রকল্প পরিচালক সচিব শুভাশিষ সাহা স্যার আসার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। মনে হচ্ছে এই প্রকল্প দেখার জন্যই তিনি আসতে চেয়েছিলেন। তার পরেও এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্পের কার্যক্রম বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সোহান আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট প্রকল্পের পানি বিশুদ্ধ করন ইউনিট স্থাপনের কাজ মোংলায় শুরু হয়েছে তা আমার জানা নেই।

১৯ আগস্টের একটি চিঠি পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো, বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে ১২ মাসে ১৫টি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, মেয়দকাল বাকি আর ৪ মাস। এই সময়ের মধ্যে দুই উপজেলায় আরো ১৮৭টি ইউনিট স্থাপন করার কথা রয়েছে। তবে প্রতিটি ইউনিটে প্রায় ৩ লাখ টাকারও বেশী ব্যয় ধরা হয়েছে। যে ১৫টি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে তা পরিকল্পনা বিহীন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে বলে জানায় এ প্রকৌশলী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451