রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

ভুরুঙ্গামারী মেধাবী তামান্না মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত

মোঃ সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬০ বার পঠিত

তামান্নার হকার বাবার বাড়ির ভিটেটুকু ছাড়া চাষাবাদ করার মতো কোনো জমিজমা নেই। সংসার চালাতে হিমশিম। বিভিন্ন হাটবাজারে ভ্যানগাড়িতে করে কাপড় ফেরি করেন বাবা তারা মিয়া। তা দিয়ে সংসার চললেও সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই তার। এমন কষ্টের সংসারে হঠাৎ সুখবর এনে দিলো তার মেয়ে তারজিনা তামান্না আক্তার।

গত ৪ এপ্রিল বিকেলে ঘোষণা হয় এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল। এতে তামান্না টেস্ট স্কোর ৭১.৫, মেরিট স্কোর ২৭১.৫ পেয়ে মেধাতালিকায় ২২৬৭ নম্বরে স্থান পায়। তামান্না রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

কিন্তু এমন সু-খবরে পরিবারের বাঁধভাঙা আনন্দ থাকলেও এক অনিশ্চয়তার মাঝে দিন কাটছে তামান্নার পরিবারের। মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও চরম দারিদ্র্য তার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তামান্নার দরিদ্র বাবার কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

তামান্না কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বেলদহ গ্রামে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে। সে উপজেলার জয়মনিরহাট উচ্চবিদ‍্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ ও ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) অর্জন করে।

জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া দুই বোনের মধ্যে বড় তামান্না। দারিদ্র্যকে জয় করে তামান্না মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পরিবারে পাশাপাশি গ্রামবাসীদের মাঝে যেমন আনন্দের বন্যা বইছে, অন্যদিকে, ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় তাদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে।

মেয়ের সফলতায় খুশি বাবা তারা মিয়া অক্ষমতার কথা জানিয়ে বলেন, মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে আরডিআরএস নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছি। মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় দুই বছরের জন‍্য এই এনজিও ২৪ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করে। বৃত্তির টাকা খরচ না করে সেই টাকা দিয়ে মেয়েকে রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাই।

এদিকে তামান্নার অনলাইনে ক্লাস করার জন‍্য মালয়েশিয়া প্রবাসী তার বাবার এক পরিচিত ব‍্যক্তি একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন।

তামান্না জানায়, মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত কিন্তু ভর্তি হতে পারব কি না ? তা নিয়ে বড়োই দুশ্চিন্তায় আছি। আমার বাবা-মাও খুব চিন্তায় আছেন। কারণ, ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় আমার স্থান হলেও অভাব-অনটনের সংসার থেকে মেডিকেলে ভর্তি হওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ‍্যক্ষ খালেদুজ্জামান বলেন, মেয়েটি খুবই মেধাবী। কলেজে পড়ার সময় আমরা তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি। এমন এক প্রতিভা যেন দারিদ্র্যের কশাঘাতে হারিয়ে না যায়, সে জন‍্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসারও অনুরোধ জানান। তামান্নার বাবা তারা মিয়ার মোবাইল নম্বর : 01921929786

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

cover3.jpg”><img src=”https://www.bssnews.net/wp-content/uploads/2020/01/Mujib-100-1.jpg”>

via Imgflip

 

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি  © All rights reserved © 2011 Gnewsbd24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazargewsbd451